আজ  বৃহঃবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯

অবশেষে নির্মাণ হচ্ছে মতলব উত্তর-গজারিয়া ব্রীজ

ব্রীজ নির্মাণে পরিবেশগত ক্ষতিকারক কোন প্রভাব পড়বে না : মতবিনিময় সভায় বক্তারা

20190619_211602

আরাফাত আল-আমিন ◊
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী কালীর বাজার-ভাসানচর ব্রীজ। এ ব্রীজটি নির্মাণ হলে মতলব উত্তর তথা, চাঁদপুরের সকল উপজেলা, লক্ষীপুর, নোয়াখালী ও ভোলাসহ কয়েকটি জেলার মানুষ খুব সহজেই ঢাকা যাতায়াত করতে পারবে। ইত্যোমধ্যেই ব্রীজটি নির্মাণের জন্য সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। ১ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের এ ব্রীজটি নিমার্ণে ব্যয় হতে পারে আনুমানিক ৪শ’ কোটি টাকা।

এ উপলক্ষ্যে বুধবার (১৯ জুন) বিকালে কালীর বাজারে পরিবেশগত প্রভাব নিরুপনের উপর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস। পরিবেশ গবেষণা বিষয়ক সংস্থা ইকিউএমএস কনসাল্টিং লিমিটেডের সহকারি কনসাল্টেন্ট মো. সাইফুর রহমান ও সহকারি কনসাল্টেন্ট আহমেদ জাকারিয়া সভায় উপস্থিত সকলের সাথে এ বিষয়য়ে উন্মুক্ত আলোচনা করেন।

উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান প্রধান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জমাদার, কৃষিবিদ মুজিবুর রহমান, ব্যবসায়ী মনজুর মিয়া স্বপন, শিক্ষানুরাগী মাসুদ আলম টিপু, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম মোল্লা, কালীর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারন সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল মোল্লা, ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক নাছির আহমেদ, প্রাক্তন শিক্ষক এসএমএ রাজ্জাক, শিক্ষক আজিজুল ইসলাম আরিফ প্রমুখ।

উপস্থিত সকলে, মতলব উত্তর-গজারিয়া ব্রীজের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ব্রীজটি নির্মাণ হলে মতলব উত্তর ও গজারিয়া উপজেলা বাসীর মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় থাকবে। ব্রীজটি হলে মতলব উত্তর উপজেলা একটি ইন্ডষ্ট্রিয়াল এরিয়া হিসেবে রূপান্তরিত হবে এবং লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চাঁদপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ভোলাসহ কয়েকটি জেলার মানুষ অধিক অথ্য ও সময় বাঁচিয়ে রাজধানীতে যাতায়াত করতে পারবে।

এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রীজটি নির্মাণ হলে একমাত্র ডায়রিয়া বিষয়ক স্বাস্থ্য সংস্থা আইসিডিডিআরবি মতলব শাখায় দ্রুত বিভিন্ন অঞ্চলের কলেরা রোগীরা যাতায়াত করতে পারবে। ব্রীজটি নির্মাণ হলে পরিবেশগত কোনও প্রভাব পড়ে না এমনকি ভাসানচরে কোন জমিও অধিগ্রহন করতে হয় বলেও উপস্থিত হয়েছে সভায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই ব্রীজটি নিমার্ণ হলে ঢাকা থেকে এসব অঞ্চলে যাতায়াতকারী প্রতিদিন ৩ হাজার যানবাহনের ১২ হাজার জ্বালানী তেল বাঁচবে। যার বাৎসরিক আনুমানিক মূল্য ৪৫ কোটি টাকা। এমনটি দূষিত ধোঁয়া থেকেও পরিবেশ সুরক্ষা পাবে এবং এই ব্রীজটি নির্মাণ হলে পরিবেশগত কোন ক্ষতিকারক প্রভাব পড়বে না বলেও আলোচনা করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মতলব উত্তর উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, বাগানবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নান্নু মিয়া, বাগানবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বাবুল মিয়া, সাদুল্লাপুর ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান মুন্সি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইঞ্জি. জামাল হোসেন নাহিদ, স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন মিয়া, আওয়ামীলীগ নেতা হারিস মো. দিপন, ইউপি সদস্য ফারুক মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম মেম্বার, যুবলীগ নেতা আবুল কাশেম’সহ মতলব উত্তর ও গজারিয়া উপজেলার ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।