আজ  শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ইতালিতে মৃতের সংখ্যা কমার পর আবার বেড়েছে

 

করোনাভাইরাসের ফলে ইউরোপের দেশ ইতালি এখন মৃত্যুপুরী। টানা কয়েক দিন মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসায় কিছুটা আশার আলো দেখছিলেন দেশটির অধিবাসীরা। তবে আজ আবার কিছুটা বেড়েছে মৃতের সংখ্যা। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেছে ৪৬৪ জন এবং মোট মৃত্যুবরণ করেছে ২৫ হাজার ৫৪৯ জন। গত কয়েকদিনে রেকর্ডসংখ্যক লোক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। আজও এ সংখ্যা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩ হাজার ৩৩ জন।
এদিন নতুন আক্রান্ত ২ হাজার ৬৪৬ জন। দেশটিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৬৭ জন, যা গতকালের চেয়ে ৮১ জন কম। মোট চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এক লক্ষ ৬ হাজার ৮৪৮ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৮৯ হাজার ৯৭৩ জন বলে জানিয়েছেন নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি।
তিনি বলেন, জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকার করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৭ হাজার ৫৭৬ জন।
ইতালির ২১ অঞ্চলের মধ্যে লোম্বারদিয়ায় করোনার সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত (মিলান, বেরগামো, ব্রেসিয়া, ক্রেমনাসহ) ১১টি প্রদেশ। আজ এ অঞ্চলে মারা গেছে ২০০ জন। শুধু এ অঞ্চলেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১২ হাজার ৯৪০ জনে দাঁড়িয়েছে, যা গতকাল বুধবারের চেয়ে ৩৯ জন বেশি। এ অঞ্চলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ১৬৫ জন। আজ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০৭৩ জন।
আগামী ৩ মে লকডাউন শেষ হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন কিছুটা শিথিল করা হতে পারে বলে সরকার থেকে ঈঙ্গিত দেয়া হয়েছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে করোনাভাইরাসে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উপর বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তে।
তিনি আরো বলেন, লকডাউন শেষে করোনাভাইরাসের টিকা বের না হওয়া পর্যন্ত খুলে দেয়া সব প্রতিষ্ঠানকে সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।
গতকাল বুধবার আলবেনিয়া থেকে দ্বিতীয় মেডিকেল টিম করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিতে ইতালিতে এসে পৌঁছেছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশের এই দুর্দিনে প্রায় আট হাজার অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মী স্বাস্থ্যসেবা দিতে করোনা আক্রান্তদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়াও করোনায় আক্রান্তদের সহযোগিতায় জার্মান থেকে আগত একটি মেডিকেল টিম ইতালির নাপলি এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে শুরু করেছে। এছাড়াও তিউনিশিয়া, কাতার, আলবেনিয়া, চীন, কিউবা এবং রাশিয়া থেকে আগত মেডিকেল টিম ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।