আজ  শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেনের প্রচেষ্টায় দুই মাস পর স্বামী-স্ত্রী একসাথে!

M1
মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি :
গত ৬ মে’১৭ ইং তারিখে যৌতুক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ দাখিল করেন গৃহবধু নূর বানু (৩০)। পালালোকদি গ্রামের স্বামী সাদেক মোল্লা (৪০) বিভিন্ন সময় যৌতুক চেয়ে তাকে মারধর করতো এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতো। দুই সন্তান ও সংসারের টানে বার বার স্বামীর সংসারে ফিরে আসতো নূর বানু। কিন্তু নির্যাতন যেন শেষ নেই। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
গত ০৬/০৫/১৭ ইং তারিখে থানায় অভিযোগ করার পর বিভিন্ন সময় পুলিশের সহায়তায় এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায়ও তার স্বামী সাদেক মোল্লাকে কিছুই দমানো যাচ্ছিল না। সে কিছুইতে এই স্ত্রীকে মেনে নিতে রাজি নন। সংসার জীবনে তাদের ৭ বছর বয়সের একটি প্রতিবন্ধী সন্তান ও আরেকটি ২ বছর বয়সের ছেলে সন্তান রয়েছে। বিশেষ করে মোটা অংকের যৌতুক ও দুই সন্তানের মধ্যে বড় সন্তানটি প্রতিবন্ধী হওয়ায় বহুদিন যাবৎ স্ত্রীর উপর নির্যাতন চালান পাষাণ স্বামী। থানায় অভিযোগ হওয়ার পর একাধিক বার তাদের মিলানোর চেষ্টা করা হলেও স্বামী মানেননি।

সর্বশেষ গত ৮ জুলাই মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) ইন্সপেক্টর মো. আলমগীর হোসেন ওই স্বামী-স্ত্রীকে নিয়ে এক বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তারা এক সাথে মিলিত হন। স্বামী সাদেক মোল্লাকে যৌতুক ও নারী নির্যাতন সম্পর্কে বুঝানো হলে তিনি একটু সচেতন হতে শুরু করেন। যৌতুকের বিভিন্ন বিষয় তার সামনে তুলে ধরলে তিনি তার ভুল বুঝতে পারেন। অবশেষে দুই মাস পর নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে স্বামী-স্ত্রী এক সাথে মিলিত হন। একসাথে মিলিত হতে পেরে স্বামী এবং স্ত্রী দুজনেই খুশি।
মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রায় দুই মাস আগে যৌতুক নির্যাতনের শিকার হয়ে নূর বানু থানায় অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে একাধিকবার তার স্বামী সাদেক মোল্লাকে বুঝালেও তিনি স্ত্রীকে মানতে নারাজ। সর্বশেষ শনিবার তাদের নিয়ে এক বৈঠকে দেশের প্রেক্ষাপট ও যৌতুক-নারী নির্যাতনের বিষয় তুলে ধরা হলে ভুল বুঝতে পেরে সাদেক মোল্লা তার স্ত্রীকে মেনে নেন। এবং আগামী দিনগুলো একসাথে শান্তিপূর্ণভাবে কাটাবেন বলেও তিনি অঙ্গিকার করেন।