আজ  মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯

একজন সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও সফল এসিল্যান্ড অফিসার ছিলেন এবিএম রুহুল আমিন রিমন:সাধারণ জনতা

26229864_1627796663945772_2713607205125149399_n

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও উপজেলা ভূমি অফিস দালাল মুক্ত হয়রানী মুক্ত করার ক্ষেত্রে বর্তমান এসিল্যান্ড অফিসার বিএম রুহুল আমিন রিমনের অবদান অতুলনীয়।   সম্প্রতি তিনি সোনারগাঁও থেকে  বদলী হয়ে হয়ে যাচ্ছে এমন প্রচারণায় হতাশায় ভুগছেন সাধারণ ভূমি সেবা গ্রহীতারা। সাধারণ জনগনের সাথে কথা বলে জানা গেছে  বিএম রুহুল আমিন রিমন ছিলেন একজন সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও সফল এসিল্যান্ড। এক সময় ভূমি অফিসে সেবা নিতে গেলেই দালালদের খপ্পরে পড়ে ঘুষ দেওয়া, হয়রানির শিকার ও মাত্রাতিরিক্ত টাকা আদায় ছিলো নিত্য দিনের চিত্র । কিন্তু তিনি যোগদানের পর এ ধারণা পাল্টে দিয়েছেন। বদলে দিয়েছেন ভূমিসেবা।

৩ অক্টোবর ২০১৭ সালে সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদানের পর উপজেলার ভূমি অফিস থেকে অনিয়ম-দূর্নীতি প্রতিরোধ করে মডেল ভূ‌মি অ‌ফিসে রুপান্তরিত করতে নিরলস ভাবে কাজ  করেছেন তি‌নি। উপজেলার ভু‌মি অফিসে উপ‌জেলা সহকারী ক‌মিশনার (ভূ‌মি) বিএম রুহুল আমিন রিমন যোগদানের পর উপ‌জেলার ও ইউনিয়ন ভূ‌মি অফিসের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে গতিশীল হয়েছে কাজ, দূর হয়েছে ভূ‌মির মা‌লিক‌দের হয়রানি ও ভোগান্তি।

ভূমি সংক্রান্ত পদ্ধতি সহজ করার জন্য নানাবিধ দিক ভেবে সেবা প্রার্থীদের সরাসরি তিনি তার সঙ্গে দেখা করার আহ্বান জানান। তিনি যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে ভূমি সেবার নানা পরিবর্তন আনা হয়েছে। সোনারগাঁও উপ‌জেলা সহকারী ক‌মিশনার (ভূ‌মি) বিএম রুহুল আমিন রিমন ৩১তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন সদস্য‌।

তিনি এখানে যোগদানের পরে তার নিজস্ব প্রচেষ্টায় ঢেলে সাজিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিস ও ভূমি সেবা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নামজারী ও জমা খারিজের আবেদন গ্রহণের সাথে সাথে আবেদনকারীকে কেস নম্বর উল্লেখপূর্বক একটি রশিদ দেওয়া। রশিদের মধ্যে উল্লেখ্য থাকে শুনানি তারিখ কবে এবং হেলডেস্ক মোবাইল নম্বর। প্রতিটি আবেদন গ্রহনের সাথে সাথে একটি সুদৃশ্য ফাইল কভার সংযোজন করা। প্রতিটি কেইস শুনানী হবে কবে? সে তারিখ গুলো নোটিশ বোর্ডে টানানো। ১২টি কলাম সম্বলিত কম্বাইড রেজিষ্ট্রার চালু করা, যাতে করে খুব সহজে নথির গতিবিধি বের করা যায়। এছাড়া নামজারী খতিয়ানের জালিয়াতি থেকে রক্ষা পেতে কম্পিউটার প্রিন্টেড “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার”এর জলছাপ যুক্ত খারিজ খতিয়ান সরবরাহ করা। কার্যালয় সুত্র জানায়, বিএম রুহুল আমিন রিমন যোগদানের আগে সেবাপ্রার্থীদের এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরতে হতো, কর্মচারীদেরও হাতের কাজের ক্ষতি হতো। কিন্তু স্যার আসার পর থেকে তারা সরাসরি সহকারী কমিশনারের কাছে গিয়ে পরামর্শ চাইলে, তাৎক্ষণিক পরামর্শ দিয়েছেন অথবা নির্দিষ্ট কর্মচারীকে ডেকে কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন। এতে কাজের গতিও বেড়ে যেতো । চালু করেছেন ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি।

সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অফিস সহকারী খালেক সরকার জানান, বিএম রুহুল আমিন রিমন সোনারগাঁওয়ে ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবরে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদানের পর থেকে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ৩৩৩ টি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৭৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ২৬০ জনকে জরিমানা করে ২৯,১২,৫০০ টাকা আদায় করেন।

খালেক সরকার আরো বলেন, বিএম রুহুল আমিন রিমন সোনারগাঁওয়ে যোগদানের আগে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে সরকারি একটি পুকুর ৩ বছরের মেয়াদে মাত্র ২২,৮০০ টাকায় লিজ দেওয়া হতো। তিনি বর্তমানে সেই পুকুর একই মেয়াদে ৫% আয়কর ও ১৫% ভ্যাট সহ ৩,৮৫,২০০ টাকায় লীজ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি উপজেলা ভূমি অফিসের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ করেছেন।

বিএম রুহুল আমিন রিমন জানান, আমি ভূমি ব্যবস্থাপনাকে এমনভাবে ঢেলে সাজানোর জন্য চেষ্টা করেছি যাতে করে সেবা গ্রহিতারা কোন ধরণের প্রতারণা ও হয়রানির শিকার না হয়। রেকর্ড রুমের নথি গুলি এমনভাবে বিন্যাস করা হয়েছে যাতে করে খুব সহজেই যে কোন নথি খুঁজে বের করা যায়।

আমি যা করেছি তা কেবল মাত্র সরকারের রুটিন ওয়ার্ক। অফিসের সৌন্দর্য বাড়াতে প্রধান ফটকের ভিতরে করেছেন দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান ও জমির অফিসের নিজস্ব গাড়ি রাখার গ্যারেজ। তিনি যোগদানের পর নিজ উদ্যোগে ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের জন্য অভ্যর্থনা কক্ষ নির্মাণ করে অফিসের সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন‌। একাধিক ভূমিসেবা গ্রহনকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে দেশের প্রতিটি ভূমি অফিসে যদি বিএম রুহুল আমিনের মতো কর্মকর্তা থাকেন তাহলে দেশের ভূমি বিভাগের দূর্নীতি শতভাগ কমে যাবে।বিএম রুহুল আমিনের ন্যায় নিষ্ঠার সাথে কাজ করায় আমরা তাকে সোনারগাঁওয়ে সম্মানের সাথে গ্রহণ করেছি,আমরা চাই তিনি সোনারগাঁওয়ে দীর্ঘদিন এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করুক।