আজ  শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮

একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন কেড়ে নিল প্রভাবশালীরা

মতলব উত্তরে পেট্রোল আগুনে দিনমজুরের বসতঘর পুড়ে ছাই
Arafat news pic

আরাফাত আল-আমিন ◊
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের দেয়া পেট্রোল আগুনে নিমিষেই একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেল। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের চরপাথালিয়া (নয়াচর) গ্রামে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩ ঘটিকার সময় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। দিনমজুর রাসেল সরকার তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতঘরটির বিন্দু পরিমাণ কাঠিও রইল না। ভাত খাওয়ার একটি প্লেট পর্যন্ত নিমিষেই হারিয়ে গেল। প্রভাবশালীদের এ অমানবিক থাবার শিকার হয়ে রাসেল এখন পথে ফকির!

থানার অভিযোগ ও মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চরপাথালিয়া গ্রামের মো. মাইনুদ্দিন সরকারের ছেলে মো. রাসেল সরকার (৩১) দুই শিশু সন্তান রাকিব (৬) ও মাহী (৩) এবং স্ত্রী শিউলি আক্তারকে নিয়ে গাছ কাঁটালির কাজ করে দিনাতিপাত করেন। গত সোমবার বিকালে নাতীর সাথে দুষ্টুমির একটি কথা নিয়ে রাসেলের শ্বশুড়ের সাথে একই বাড়ির প্রভাবশালী সাবেক ইউপি সদস্য আঃ ছাত্তার মেম্বারের কথা কাটা-কাটি হয়। এতে হিংস্র হয়ে ছাত্তার মেম্বারের ছেলে নাছির, সোহেল, একই গ্রামের মজিবুরের ছেলে রুবেল, নোয়াব আলীর ছেলে রফিক ও নূরে আলম দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাসেলের বসতঘরে সোমবার সন্ধায় অতর্কিত হামলা দেয়। হামলায় রাসেলের স্ত্রী শিউলি আক্তার (২৬), রাসেলের ভাই শাহীন (২৩) ও বোন তাজনিন (১৬) গুরুতর আহত হন। সাথে সাথেই আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মতলব উপজেলা দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামাল হোসেন।

রাসেল কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা রোগী নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত ছিলাম। এই ফাঁকে রাতে ঘর খালি পেয়ে ছাত্তার মে¤^ারের ছেলে নাছির ও সোহেল রাতের আঁধারে ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে বোতল ভর্তি পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এরআগে সন্ধায় তারা আমার স্ত্রী ও ভাই-বোনকে পিটিয়ে আহত করেছে। আমার আর কিছুই রইল না। সব পুড়ে ছাই হয়ে গলে। ঋণ করে গত বছর প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে একটি টিনের দোচালা ঘর নির্মাণ করেছি। ঘরে থাকা সকল আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা সব কিছুই পুড়ে গেছে। নতুন বিদ্যুতের সংযোগের তার ছিল সেগুলোও পুড়ে গেছে। আমি এর বিচার চাই। এ ঘটনায় নাছির, সোহেল, ছাত্তার, রফিক, মজিব ও সোহেলসহ ৭ জনকে আসামী করে মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন রাসেল।

রাসেলের মা শাহিদা বেগম ও বোন ফাতেমা আক্তার বলেন, রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে আগুনের ধাউ ধাউ শব্দ শুনে বাহিরে গিয়ে দেখি রাসেলের ঘর পুড়ে যাচ্ছে। ডাক-চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে। কারা আগুন দিয়েছে আমরা তা দেখিনি। তবে ছাত্তার মে¤^ারের ছেলেরাই এ কাজ করেছে বলে আমাদের ধারনা। কারন তারা সন্ধায় আমাদের উপর হামলা দিয়েছিল।

এদিকে প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি সদস্য ছাত্তার মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার ছেলেরা রাসেলের স্ত্রী ও তাদেরকে মারধর করেছে ঠিক। কিন্তু তার ঘরে আগুন দেয়নি। আমরা কেন রাসেলের ঘরে আগুন দিতে যাবো। আগুনের ঘটনাটি মিথ্যা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামাল হোসেন বলেন, সোমবার সন্ধায় ডাক-চিৎকার শুনে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখি রাসেলের স্ত্রী ও ভাই-বোন গুরুতর আহত। সাথে সাথে তাদের মতলব নিয়ে যাই। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চাঁদপুর হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিৎসক। চাঁদপুর থেকে মঙ্গলবার ভোরে এসে বাড়িতে শুয়ে ছিলাম। রাসেল মোবাইলে কল করে আমাকে বলল তার ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি গিয়ে দেখি তার পুরো ঘরটিই আগুনে পুড় গেছে। একজনের বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া একটা মানবতা বিরোধী অপরাধ। এতে চরমভাবে মানবাধিকার লংঘন হয়েছে বলে আমি মনে করি।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ারুল হক বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি। ক্ষতিগ্রস্ত রাসেল অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।