আজ  সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৯

এক্সিলেন্ট গ্রুপ এর নৌ ভ্রমণ ২০১৯

PPAGE

এম. পারভেজ পাটোয়ারীঃ মানুষ তার গ্লানি, দুঃখ,কষ্টের কথাগুলো প্রকৃতির কাছে প্রকাশ করতে তার কাছে খানিক আশ্রয় চায়। প্রকৃতি তাকে কখনও নিরাশ করে না, তার ডাকে সাড়া দিয়ে তার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। আমরা প্রকৃতিরই একটা অংশ, তাই মন বার বার প্রকৃতির মাঝে ফিরে যেতে চায়। তাইতো আমরা অন্তত একদিনের জন্য হলেও প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে চাই।

এক্সিলেন্ট গ্রুপ এর পক্ষ থেকে এবার নৌ ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছে । আয়োজনটি খুবই  ব্যতিক্রম।  বাসে চড়ে পিকনিকে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সবার থাকলেও নৌ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অনেকের নেই। তাই  নৌ ভ্রমণের আয়োজনে সবার মধ্যে এক ধরনের উদ্দীপনা কাজ করছে। নৌ ভ্রমণের রুট নির্ধারণ করা হয়েছে সদরঘাট থেকে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার একলাসপুর আাবার একলাসপুর থেকে সদরঘাট রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদেরকে সকাল ৭.৩০ মিনিটে সদরঘাটে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়। বেঁধে দেওয়া সময়ে আমরা সবাই ঘাটে উপস্থিত হই। সবার গায়ে একই রকমের সাদা গেঞ্জি, সাদা কেপ। পিকনিকের জন্য একই ডিজাইনের গেঞ্জি কেনা হয়েছিল। গেঞ্জি দেখে চিনতে পারছি কারা আমাদের সাথে যাচ্ছেন। কীর্তনখোলা-২ লঞ্চ যেন এক জলদানব, বিশাল আকৃতির।
50085486_2216251338419631_5785833758217207808_n
সবাই ঘাটে পৌঁছার পর ৯.১৫ মিনিটে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছাড়া হয়। সকালের দৃষ্টিনন্দন কুয়াশা আর রোদের আলোর মধ্যে দিয়ে লঞ্চ সামনের দিকে এগিয়ে যায় এই জলদানব লঞ্চ। লঞ্চের এক মাথা থেকে আরেক মাথা কয়েকবার ঘুরলাম। প্রকৃতির অকৃত্রিম হাসি উপলব্দি করতে লাগলাম। মাথার উপর বিশাল আকাশ, দিক দিগন্ত প্রকৃতির অপরূপ ছোঁয়া মুহূর্তেও মধ্যে মনকে চাঙ্গা করে দেয়। লঞ্চের মধ্যে থেকে বিস্তর জলরাশি পাশ দিয়ে বয়ে চলা লঞ্চ, স্টিমার, ডিঙ্গি নৌকা দেখতে ভালই লাগছিল। এর মধ্যে সকালের নাস্তা খাওয়ার ডাক পড়লো।
50524845_2216293218415443_7001458375141621760_n 50638556_2216292061748892_6561702501974802432_n 50448720_2216259498418815_2378946762795646976_n 50494697_2214678838576881_7318653061549785088_n

লাইনে দাঁড়িয়ে টোকেন দিয়ে নাস্তা নিলাম। আমাদের সকালের নাস্তা দেয়া হয় খিচুড়ি। খিচুড়ি খেয়ে অন্য রকম এক স্বাদ পেলাম। নৌকা, লঞ্চের খাবারে নাকি অনেক বেশি স্বাদ থাকে সে কথা যে সত্যি তা আজ বুঝলাম।

নাস্তা  খাওয়ার পর লঞ্চের দ্বিতীয় তলায় শুরু হল ব্যান্ড সংগীত, শিল্পী হিন্দি বাংলা মিলিয়ে গান আর নাচ পরিবেশন করে। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয় এতে অংশ গ্রহণ করেন চিত্রনায়িকা অঞ্জনা, নায়িকা রেসি, আইটেম সং বিপাসা কবির, মডেল শিপন সহ আরো অনেক চলচ্চিত্রাঙ্গণের শিল্পীরা। আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম”, বিভিন্ন ধরনের গান গেয়ে শিল্পীরা ভ্রমণ পিপাসুদের মুগ্ধ করেন এবং অনেকে নাচতে থাকেন। অনেকে এত সুন্দর করে নাচছেন যে গানের মনযোগ নাচের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকের মধ্যে লাজুকভাব থাকলেও আজকে তা বাড়িতে রেখে এসেছেন।

সবাই বিভিন্নভাবে পোজ দিয়ে ছবি তুলছেন আমিও বাদ যাইনি ছবি তোলা থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ার এ যুগে ছবি সাথে সাথে ফেসবুক, টুইটারে আপলোড হয়ে যাচ্ছে।
50487779_2216372115074220_6987385472414646272_n
দুপুর ১ টায় গিয়ে আমরা মতলব উপজেলার একলাসপুর ঘাটে পৌঁছি। ঘাটে পৌঁছার আগে আমরা দেখলাম পদ্মা মেঘনার মোহনা। দুই নদীর পানির পার্থক্য দূর থেকেও বুঝা যায়। পদ্মার পানি স্বচ্ছ মেঘনার পানি ঘোলা। বিধাতা সৃষ্টির মধ্যে কত যে রহস্য রেখে দিয়েছেন মানুষ তা কমই উদ্ঘাটন করতে পেরেছে। আমাদেরকে যখন ঘাটে নামতে দেওয়া হয় তখন এক্সিলেন্ট গ্রুপের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর আশীষ ভাই, করনেট গ্রাফিক্সের বন্ধু শাহাদাতসহ আমরা আশে-পাশে ঘুরে দেখলাম নদীর পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা ও বাংলার প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। যা খুবই মনোমুগ্ধকর এক মুহূর্ত।

শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের বিরতি দেওয়া হয়। নামাজ আদায়ের পর দুপুর ২টা খাওয়া শুরু হয়, লাইনে দাড়িয়ে টোকেন দিয়ে প্লেটে করে খাবার নিলাম। দুপুরের খাবারে ছিল মুরগি, পোলাউ, সবজি, কোল্ড ডিংস, সালাদ। যে যার পছন্দ অনুযায়ী খাবার নিচ্ছেন।  সবাই দুপুরের খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে আবারও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক উপভোগ করার জন্য অডিটোরিয়াম চলে আসে। তারপর ৩টার দিকে আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে দেয়।
গানের তালে তালে অনেকে নাচেন। গানের আওয়াজে অনেক দূর থেকে মানুষ আমাদের লঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকে।
তারপর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান । এক্সিলেন গ্রুপ  চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর আনোয়ার হোসাইন রানা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
ততক্ষণে আমরা মেঘনা পাড়ি দিয়ে সদরঘাটে পৌঁছে গেছি। পিছনে ফেলে এসেছি এক রাশ ক্লান্তি হতাশা দুঃখ বিষাদ। এমন একটি সুন্দর নৌ ভ্রমণ মনে গেঁথে থাকবে অনেকদিন। আর সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন টাচ্ ক্রিয়েশন লিঃ।