আজ  মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮

এবার কী নাফীস হবেন তামিম?

parvez_inn24
ক্রীড়া ডেস্কঃ আবার তামিম ইকবালের সামনে বড় ভাই নাফীস ইকবালকে স্পর্শ করার সুযোগ।
নাফীস ইকবালের নামটা এমন দিনে না এসে পারেই না। টেস্টের পুরো একটা দিন বাকী, বাংলাদেশের দুই ওপেনার উইকেটে; এমন সময়ে নাফীস ইকবাল ও জাভেদ ওমরের সেই লড়াইয়ের কথা কে ভুলতে পারে? জিম্বাবুয়ের সাথে ঢাকায় এমনই এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ ড্র করিয়েছিলেন নাফীসরা এবং জিতিয়েছিলেন প্রথম সিরিজ।
আজ সেই চ্যালেঞ্জের সামনে আবার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার।
তামিমের জন্য এই শেষ দিন পুরো কাটানোর চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একবার এই চ্যালেঞ্জের মুখে চতুর্থ দিনে অপরাজিত থেকেছেন তামিম। কিন্তু নাফীস ইকবাল হয়ে ওঠা হয়নি তার। এবার কী পারবেন তামিমরা?
চ্যালেঞ্জ নেওয়ার আগে একটু ইতিহাস দেখা যাক।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা রাতে যদি নিজেদের পরিসংখ্যান ঘুটতে বসেন, তা হলে প্রথমেই একটা ধাক্কা খাওয়ার কথা। এমন করে ম্যাচ বাঁচানোর ইতিহাস আসলে খুব বেশি একটা দলের নেই। বাংলাদেশ নিজে এখন পর্যন্ত ২৩ বার ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করেছে। এর মধ্যে ১১ বারই বাংলাদেশ ৮০ বা তার কম সংখ্যক ওভারে অলআউট হয়ে গেছে এবং স্বভাবতই ম্যাচ হেরেছে। চতুর্থ ইনিংসে ৩৭.১ ওভারেই অলআউট হওয়ারও নজির আছে বাংলাদেশের; ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
এই ১১ বার বাদ দিলে বাংলাদেশ চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করে ৮০ বা তার কম ওভার ব্যাট করে ৩ বার ম্যাচ ড্র করেছে এবং ২ বার ম্যাচ জিতেছে। তা হলে গেল চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা ১৬ ম্যাচের হিসাব। বাকি ৭ ম্যাচের কথা আমরা কেন এখনো বলছি না? কারণ, এই ৭ ম্যাচের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আজ আরেকবার নিজেদের সেরাটা দেখিয়ে দেয়ার অনুপ্রেরণা।
বাংলাদেশ চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করে ৭ বার ৮০ ওভারের ওপরে ব্যাট করেছে এবং এর মধ্যে ৪ বার ১০০ ওভারেরও বেশি ব্যাট করেছে! যার চেয়ে কম করলেই আজ চলবে।
এর মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১০ সালে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের কম-বেশি ১৬৫ ওভার ব্যাট করার দরকার ছিল, ম্যাচ বাঁচানোর জন্য! ম্যাচের আগে শুনলে যতো ভয়াবহ মনে হতে পারতো, তার চেয়ে কাজটা শেষ পর্যন্ত কম ভয়ঙ্কর বানিয়ে ফেলেছিলেন জুনায়েদ-মুশফিকরা। জুনায়েদের সেঞ্চুরি ও মুশফিকের ৯৫ রানে ভর করে ম্যাচ হারার আগে ১২৪ ওভার ধরে অবিশ্বাস্য এক লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
চতুর্থ ইনিংসে ১০০ ওভারের বেশি ব্যাট করে এই মুশফিকেরই অংশগ্রহণে বাংলাদেশ এ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ইতিহাসও তৈরি করে ফেলতে বসেছিল। ২০০৮ সালের মিরপুর টেস্টের শেষ ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ৫২১ রান। দুনিয়ার সবাই জানতো, এই লক্ষ্যে হাঁটাও অসম্ভব। কিন্তু অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো করে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকুর রহিম। এ তিনজনের দানবীয় ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৪০৩ রান অবধি পৌঁছে গিয়েছিল। তখন সারা পৃথিবীর চোখ বাংলাদেশের ওপরে। সেই সময়ে নিয়তির ছোবলে ধসে পড়ল বাংলাদেশের ইনিংস। তারপরও সেই ম্যাচে শেষ ইনিংসে ১২৬.২ ওভার ব্যাট করে দৃঢ়তাটা কাকে বলে বুঝিয়ে দিয়েছিল তারা।
কিন্তু এই দুই উদাহরণ অনুসরণ করলেও তো হবে না! এই দুই ম্যাচেই তো প্রবল প্রতিরোধের পরও পরাজয় এসেছিল। আমাদের চাই ম্যাচ বাঁচানো। তা হলে? হ্যাঁ, সে উদাহরণও বাংলাদেশেরই আছে।
সেটা আজকের কথা নয়। সেই ২০০৫ সালে নিজেদের প্রথম টেস্ট জয়ের পরের ম্যাচেরই কথা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩৭৪ রান; নতুবা প্রায় ১৫০ ওভার ধরে ব্যাট চালিয়ে যাওয়া। ম্যাচটা হারলে সিরিজও ড্র হয়ে যায়, এমন অবস্থায় বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জটা নিয়ে ফেললো। আগের দিনই বিনা উইকেটে ৫৭ ওভার ব্যাট করে ফেলার পর শেষ দিনে ঠিক এরকম ১০ উইকেট হাতে নিয়ে সারাদিন ব্যাট করে যাওয়া দরকার ছিল।
আগের দিন থেকে উইকেটে থাকা নাফীস ইকবালের অসামান্য এক সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ সে চ্যালেঞ্জ পার করে ফেলল। ৫ উইকেট খুইয়ে ১৪২ ওভার ধরে ব্যাট করে ম্যাচ ড্র করে ফেলেছিল বাংলাদেশ।
শেষ দিনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এমন আরো একটা ড্রয়ের গল্প আছে এবং কাকতালীয় ভাবে এখানেও— সেই ম্যাচটাও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ছিল, সেই চতুর্থ দিনেও অপরাজিত ছিলেন তামিম ইকবাল।
২০১৪ সালে শেষ দিন পুরো বাঁচানোর সেই লড়াইয়ে পঞ্চম দিনে ৩১ রান করে আউট হয়ে গিয়েছিলেন তামিম। কিন্তু মুমিনুল ও সাকিবের প্রবল প্রতিরোধে ৮৪.৪ ওভার ব্যাটিং করে ম্যাচ বাঁচিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তা হলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ইতিহাস আছে আমাদের। আছে তামিম ইকবালের প্রেরণা। আছে সৌম্য সরকারের ইতিবাচক ব্যাটিং। এবার আবার সেই গল্পটা লেখা হোক!
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা
প্রথম টেস্ট
টস: শ্রীলঙ্কা (ব্যাটিং)
শ্রীলঙ্কা:
১ম ইনিংস: ১২৯.১ ওভারে ৪৯৪/১০
বাংলাদেশ
১ম ইনিংস: ৯৭.২ ওভারে ৩১২/১০
শ্রীলঙ্কা: ২য় ইনিংস
ব্যাটসম্যান                               রান  বল চার   ছয়
করুনারত্নে ক রিয়াদ ব তাসকিন    ৩২  ৭৩ ১      ০
থারাঙ্গা ব মিরাজ                        ১১৫      ১৭১ ১১          ২
কুশল ক তাসকিন ব সাকিব          ১৯   ৪৯  ০     ১
চান্দিমাল নট আউট                    ৫০  ৭৫ ৪      ০
গুনরত্নে ব সাকিব                       ০    ৩   ০     ০
ডিকওয়েলা ক লিটন ব মিরাজ       ১৫  ১৭ ১      ১
পেরেরা ক লিটন ব মুস্তাফিজ        ৩৩  ২৭ ৫     ১
অতিরিক্ত (বা-২, লেবা-১, ও-৬, নো-১)     ১০
মোট: ৬৯ ওভারে                      ২৭৪/৬
বোলিং:
শুভাশিষ ৭-০-৩৪-০, মিরাজ ২০-১-৭৭-২, মুস্তাফিজ ৯-৪-২৪-১, সাকিব ২৫-২-১০৪-২, তাসকিন ৮-০-৩২-১
বাংলাদেশ: ২য় ইনিংস
তামিম ব্যাটিং                            ১৩  ৪৪  ১      ০
সৌম্য ব্যাটিং                             ৫৩  ৪৭ ৬     ১
অতিরিক্ত (নো-১)                      ১
মোট: ১৫ ওভারে                      ৬৭/০
বোলিং:

লাকমল ০/৮, পেরেরা ০/২৪, হেরাথ ০/৩২, গুনরত্নে ০/৩