আজ  বৃহঃবার, ২ জুলাই, ২০২০

করোনাভাইরাস: বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি

 

মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস চীনের বাইরে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বৃহস্পতিবার জেনেভায় জরুরি বৈঠক করে এই ঘোষণা দেয় সংস্থাটি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস অ্যাডানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, চীনে কি হচ্ছে সেটার চেয়ে বেশি জরুরি বিশ্বের অন্যান্য দেশে কি ঘটছে। উদ্বেগের বিষয় হলো দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেশগুলোতে এ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে নাগরিকদের চীনের উহান থেকে ফিরিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ। অনেক এয়ারলাইনস চীনে যাওয়া-আসার ফ্লাইট কমিয়ে দেওয়া ও বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চীনের বাইরেও এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটছে। চীন ছাড়া এখন পর্যন্ত ১৬টি দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল জরুরি বৈঠকে বসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বৈঠকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তারের ফলে সারাবির্শ্বে সতর্কতা জারি করা হয়।
বৈঠক শেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইসাস বলেন, ‘এই ঘোষণার মূল কারণ শুধু চীনে কী হচ্ছে তা নয় বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশে কী ঘটছে সেটাও দেখতে হবে। তিনি বলেন, উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো এই ভাইরাস দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, কয়েক দিনে মানুষে-মানুষে সংস্পর্শের মাধ্যমে করোনাভাইরাস যেভাবে কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তা উদ্বেগের। যদিও চীনের বাইরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এখনও খুব কম। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্তদের নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা প্রতিষেধক নেই।
তিনি বলেন, অনেক মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও আবার সেরে উঠতে পারেন। তবে শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে বাহিত হয়ে মারাত্মক সংক্রমণ তৈরি করতে পারে। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।
এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেলথ ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান মাইকেল রায়ান বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য পুরো বিশ্বকে এখন সতর্ক হওয়া দরকার, প্রস্তুত হওয়া দরকার।