আজ  সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০

করোনার গুজব, চিকিৎসার অবহেলায় যুবকের মৃত্যু

করোনার উপসর্গের গুজব নিয়ে চাঁদপুর ২৫০শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া যুবক সোহাগ মিজি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না।
১৬ এপ্রিল শুক্রবার তার করোনা টেস্টের রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ।  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর হাসপাতালের আরএমও ও করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল।
হাসপাতালে মারা যাওয়া ওই যুবকেরে বয়স ছিল ৩৩ বছর।  গত সোমবার দিবাগত রাতে অসুস্থ অবস্থায় চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে আসলে সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।  মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলায় যুবক সোহাগের মৃত্যু  হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার পরিবার। এরপর তার নমুনা সংগ্রহ করা হয় করোনা টেস্টের জন্য। শুক্রবার সেই রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ।  অর্থাৎ তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। হূদরোগে আক্রান্ত হওয়া যুবক সোহাগকে সঠিক মত চিকিৎসা না দিয়ে আইসোলেশন বিভাগে করোনা রোগীদের সাথে নিয়ে রাখায় চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের লোকজন।
হাসপাতালের আরএমও ও করোনা বিষয়ক  ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, সোমবার দিবাগত রাত ৩টার কিছু পরে ওই যুবক প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে আসে।
করোনার উপসর্গ থাকায় সন্দেহজনক রোগী হিসেবে রাতেই তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি কর হয়।  মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে রোগী মারা যায়।

মৃতের স্ত্রী জানায়, সোহাগের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। ঘটনার দিন রাতে নামাজ শেষে বাসায় আসার পর স্বামী স্ত্রীর মিলন হয়। পরে তার হাই পেশার  বেরে গিয়ে স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পরে। তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার ঢাকায় নেওয়ার জন্য  বলেন। অর্থের অভাবে ঢাকায় না নিতে পারায় ডাক্তার স্বাক্ষর নিয়ে চিকিৎসা না করে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করায়। ডাক্তারের অবহেলায় ও চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত সোহাগের মা,বাবা ও বোন জানান, সোহাগের কোন রোগ ছিলো না। সে সুস্থ ছিল। ডাক্তার করোনারি গুজব ছড়িয়ে সঠিক চিকিৎসা না করার  কারনে সোহাগের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিহত সোহাগ চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচন ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আখন ঘাট ছৈয়দ আলী মিজির ছেলে।  তার শ্বশুর বাড়ি চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৯ নং গবিন্দপুর ইউনিয়নের মধ্য হরিনা গ্রামে।
নিহত সোহাগের মা বেলি খাতুন ও বাবা সৈয়দ আলী গাজী ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই বলে ছিলেন, করোনা ভাইরাসে ছেলের মৃত্যু হয়নি।