আজ  সোমবার, ১ জুন, ২০২০

করোনা আক্রান্ত তরুণের আবেগময় স্ট্যাটাস

 

করোনা ভাইরাস নামে যে অসুখটি বর্তমানে সমগ্র বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে, তার সম্পর্কে নিশ্চয়ই সকলেই অবগত আছেন। ইতোমধ্যেই আপনারা নিশ্চয়ই এও জেনে গেছেন যে, এই অসুখটি ক্ষমতাবান অথবা দুর্বলের পার্থক্য বুঝে না। বুঝে না ধনী-গরীব, হিন্দু কিংবা মুসলমান। তার কাছে সব মানুষ সমান। যে কোনো মানুষ যে কোনো মুহূর্তে করোনাক্রান্ত হতে পারেন। সমগ্র পৃথিবীতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই অসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন। আবার অনেকেই সুস্থ হয়ে ফিরছেন পরিবারের কাছে। আমাদের দেশেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। দেশে করোনায় আক্রান্তের পাশাপাশি সুস্থ হবার সংখ্যা দীর্ঘ হচ্ছে। তাহলে করোনা আক্রান্তদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এতোটা পাষাণ কেনো? এই দেশে যাদের করোনা পজিটিভ তারা কি ভিন্ন জগতের মানুষ? করোনা হয়েছে বলে কি অনেক বড় পাপ হয়ে হয়েছে তাদের?
আমার করোনা পজিটিভ। তবে আলহামদুলিল্লাহ আমি এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ। আমার কোনো ংুহফৎড়সব নেই, নিজ বাড়িতে হোম কোয়ান্টাইমে আইসোলেশনে আছি। ৭দিন পর আবার স্যাম্পল নিয়ে আবার পরীক্ষা করবে। তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কেউ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না।
মানুষ মরণশীল। মানবজীবনে একমাত্র চিরন্তন সত্য হলো মৃত্যু। বাকি সব মিথ্যে-মরীচিকা আর অনিশ্চয়তার খেলা। আমরা মানবজাতি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবো বলেই মহান স্রষ্টার কাছে প্রমিজ করে এসেছি। তাহলে ক্ষণিকের এই জীবন নিয়ে এতো বাহাদুরি কিসের। রোগ-ব্যাধি মানুষের হবে, হতেই পারে। কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে, কেউ হৃদরোগে, কেউ হার্টের রোগে। আল্লাহ আমাদেরকে রোগ দেন আবার তিনি চাইলে সুস্থ করেন।
বর্তমানে সবচে’ ভয়ঙ্কর রোগটি হচ্ছে করোনা ভাইরাস। বিশ্বের অনেক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এবং অনেক মানুষ ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। কে কখন এ রোগে আক্রান্ত হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ, এ ভাইরাসটি চোখেই দেখা যায় না। তাই কেউ যদি ৫০ টাকার মাস্ক আর আর ২০ টাকার গ্লাভস পরে নিজেরে সুপার হিউম্যান ভেবে, নিরাপদ ভেবে ফেলে সেটা পুরোপুরি ভুল ধারণা। তাই আমাদের সচেতন হওয়া খুবই জরুরি। তবে সচেতনতার সাথে সাথে আমাদের মানবিক হওয়াও জরুরি। কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হয়ে যায় তাহলে আমদের তার প্রতি সদয় হওয়া উচিত। আমরা তার কাছে না গেলেও দূর থেকে তাকে সাহস যোগাতে চেষ্টা করবো। আমরা যেনো তার প্রতি বা তার পরিবারের প্রতি অসদাচরণ না করি। আমরা তাদের আতঙ্কিত না করি। তারা তো আমাদেরই কারো না কারো আপনজন।
তিক্ত হলেও সত্য যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই এর ব্যতিক্রম দেখতে পাই। আমরা দেখছি যে, কেউ করোনা আক্রান্ত হলে সমাজ যেনো তার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করছে। তার এবং তার পরিবারের প্রতি অসদাচরণ করছে। কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করে দেয়া, তার পরিবারকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবার উৎসবে মেতে উঠতে দেখছি।

দয়া করে আপনারা এসব কাজ করবেন না। কারণ আমরা কেউই বর্তমানে পুরোপুরি সুরক্ষিত না। আমাদের যে কারোই হতে পারে এই ভয়ংকর করোনা ভাইরাস। আগেই বলেছি করোনা ক্ষমতাবান কিংবা দুর্বল চিনে না, হিন্দু কিংবা মুসলিম চিনে না, কেবল মানুষ চিনে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা সচেতনতা এবং মানবিকতার সাথে করোনা মোকাবেলা করার চেষ্টা করব। ইনশাল্লাহ।
চাঁদপুর তথা সারা দেশের জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে আমার জোর অনুরোধ, করোনা পজিটিভ ব্যক্তির প্রতি সমাজের সকল মানুষ যাতে সচেতনতার পাশাপাশি মানবিক হয়। তাকে কিংবা তার পরিবারকে কেউ যাতে হেয়প্রতিপন্ন না পারে। সে বিষয়টি আপনারা আরো জোরালোভাবে নজর দিবেন।
এই বিপদের সময় দয়া করে আমার পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা রিপোর্ট করবেন না। আমিসহ আমাদের পরিবারের বাকি সদস্যরা সুস্থ আছে। কারও মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দেয়নি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমাদের এবং আপনাদের সবাইকে যেন আল্লাহ হেফাজত করেন।

-খায়রুল বাশার সিহাব, চাঁদপুর।