আজ  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

করোনা ভাইরাস ঠেকাতে ফাঁকা রাজধানীর অলিগলি-রাজপথ

 

ঢাকা: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ও ১০ দিনের ছুটিতে আশ্চর্যজনকভাবে সুনসান ফাঁকা হয়ে পড়েছে রাজধানীর অলিগলি-রাজপথ। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মী, চিকিৎসক, গণমাধ্যমকর্মী ও একান্ত প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষজন ছাড়া পুরো শহরে যেন ‘কোথাও কেউ নেই’ অবস্থা।
স্থায়ী-অস্থায়ী প্রায় সোয়া কোটি মানুষের শহর মেগাসিটি ঢাকা। বাংলাদেশের রাজধানী ও শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ শহর প্রতিদিন সচল থাকে ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু সেই মেট্রোপলিটন শহর বর্তমানে নিরব। পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ সুনসান ও ফাঁকা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়ক ঘুরে এ অবস্থায় দেখা যায়।

এছাড়া বিগত কয়েকদিনে ধরে রাজধানীর অফিস পাড়া, বিনোদন কেন্দ্র, বাসস্ট্যান্ড, সদরঘাট, রেলস্টেশন, বিভিন্ন শপিং মলসহ স্বাভাবিক সময়ে জনসমাগমে পূর্ণ থাকা স্থানগুলো জনশূন্য অবস্থায় ফাঁকা রয়েছে।

মতিঝিলে কর্মমুখী মানুষের ছুঁটে চলার তাড়াহুড়ো নেই, গুলিস্তানের ফুটপাতে হাঁক ডেকে পণ্য বিক্রির হিড়িক নেই, গাবতলীতে আন্তঃজেলা বাস আসা যাওয়ার মিছিল নেই। মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে যানজটের দীর্ঘ সারিও নেই। কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেটে দৌড়ে পাল্লা দিয়ে বাসে ওঠার প্রতিযোগিতাও নেই কারও মাঝে। রাজপথে গণপরিবহনও নেই। বন্ধ আছে রাইড শেয়ারিং সেবাগুলো। এছাড়া টং দোকান থেকে শুরু করে বন্ধ রয়েছে ছোট বড় রেস্টুরেন্টও। তবে খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে রাজধানীবাসীদের বের না হওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে। ফলে চিরচেনা ঢাকা এখন পুরো ফাঁকা।

এদিকে দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘরের বাইরে বা সড়কে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না রাজধানীর নাগরিকদের। রাজপথে না হলেও রাজপথ থেকে একটু ভেতরের সড়কে গেলে ঘিরে ধরে অন্ধকার।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে, সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র জানায়, নগরবাসী যেন ঘর থেকে বের না হন সেজন্য কিছু কিছু এলাকার রাতে সড়কবাতিগুলো বন্ধ রাখা হচ্ছে।

এমনই পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তাগিদে বাসা থেকে বের হচ্ছেন কেউ কেউ।
শুক্রবার বাজার করতে বের হয়েছেন তৈরি পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাওসার হোসেন। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আমাদের তো পুরো সপ্তাহ অফিস করতে হয়েছে। বাজার তো করা ছিল না। তাই শুক্রবার দেখে বের হলাম। বাজার প্রয়োজন না হলে বের হতাম না। এখন যে বের হয়েছি তাও মাস্ক, গ্লাভস পরেছি। কাঁচা বাজারও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছি। সেখানে পরিবেশ সে রকমভাবে ভালো না। সুপার শপে যাচ্ছি।
অন্যদিকে বিনা প্রয়োজনে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন কি না সেদিকে কড়া নজরদারি রাখার চেষ্টা করছে পুলিশ সদস্যরা। বিনা কারণে ঘর থেকে বের হয়েছে এমন মনে হলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মোমেন বাংলানিউজকে বলেন, কেউ যদি গাড়ি নিয়ে বের হন তাহলে অনেক সময় গাড়ি দেখে যাত্রীর পরিচয় বা চলাচলের কারণ বোঝা যায়। যেমন আপনারা সাংবাদিক, আপনাদের গাড়ি দেখি। তবে অন্য গাড়িও মাঝে-মধ্যে দাঁড় করিয়ে দেখভাল করছি গাড়িটি কেন বের হয়েছে। যাত্রীদের গন্তব্য কোথায় ও সেখানে যাওয়ার কারণ কি। ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া এখন তো আর অন্য কোনো ধরনের পরিবহন চলার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, পথচারীদের কাউকে দেখলে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তবে দেখা যায় বেশিরভাগই যারা বের হন তাদের কারণ থাকে। কিছু কিনতে বের হয়েছেন যা দরকার। কারও বাজার, কারও ওষুধ। এর বাইরে অন্য কোনো কারণে কেউ বের হচ্ছে কি না আমরা তা দেখার চেষ্টা করছি।
প্রসঙ্গত, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পাঁচ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আর আগামী ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় ১০ দিনের ছুটিতে থাকবে সারা দেশ।