আজ  শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

কাজের মেয়ে তাজিলাকে হত্যার প্রতিবাদে ও ঘাতকদের ফাসির দাবীতে পুরানবাজারে মার্চ্চেন্টস একাডেমীর ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ ॥ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন

20160128_131513শাওন পাটওয়ারী॥ চাঁদপুর পুরানবাজারে কাজের মেয়ে তানজিলা আক্তার (৯) কে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় ঘাতকদের বিচার ও ফাসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পুরানবাজার মার্চ্চেন্টস একাডেমীর ছাত্রছাত্রীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় মিছিলটি স্কুল থেকে বের হয়ে পুরানবাজার পুলিশ ফাড়ির সামনে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে স্কুল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত শেষে ঘাতকদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে বলে আশ্বস্ত করে পুরানবাজার পুলিশ ফাড়ি। এদিকে পুরানবাজার কুলিবাগান (সুরুজ মহল) এলাকায় তানজিলা হত্যার ঘটনাস্থলে এএসপি নজরুল ইসলাম, পুরানবাজার পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পরিদর্শনে আসেন। জানা যায়, নিহত তাসজিলা আক্তারের মা বেগম দীর্ঘ ৯ মাস পূর্বে তার খালাতো বোন জো¯œার কাছে মেয়েকে স্কুলে পড়াশুনা করানোর স্বর্তে কাজে দেয়। সে সুবাদে জো¯œা বেগম তার মেয়ে নুসরাতের সাথে পুরানবাজার মার্চ্চেন্টস একাডেমীতে কেজিতে ভর্তি করিয়ে দেয়। ঘটনার আগের দিন রবিবার নিহত তানজিলা তার স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ২য় স্থান লাভ করে। প্রতিদিন আসার স্কুলে আসার সময় জো¯œার ২ সন্তানের বইয়ের ব্যাগ কাধে করে সে আনা নেওয়া করতো। স্কুলে পড়াশুনা ভালো করায় তাকে শিক্ষকরা তাকে খুব আদর যতœ করতো। ঘটনার দিন দুপুরে স্কুল শেষে বাসায় ফেরার পর তানজিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে টয়লেটের ভিতর ঢুকিয়ে রাখার পর লাশ গুম করার জন্য পায়তারা করে।হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে তানজিলার সহপাঠি ও শিক্ষকরা বিক্ষোভ মিছিল করে। বেলা ১২ টায় হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান চাঁদপুরের এএসপি নজরুল ইসলাম। তিনি কুলিবাগান সুরুজ মহলে নান্টু হাওলাদারের বসত ঘরে প্রতিটি রুম পরিদর্শন করেন ও ঘরের ভিতরে থাকা টয়লেটটি দেখেন। এসময় তিনি বলেন, ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে ঘটনার রাজস্বাক্ষী জো¯œার মেয়ে নুসরাত এখনও নিখোজ থাকায় পুলিশ তাকে বের করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কারন হত্যার ঘটনার সময় নুসরাত সবকিছু দেখেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই মূল হোতা হাকি জমাদার ও তার পরকিয়া প্রেমিক জো¯œার বড় বোন পারুল চরে তার আত্বিয়ের বাসায় পালিয়ে রয়েছে। তাদের সাথে ঘটনার রাজস্বাক্ষী নুসরাত রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। ঐ দুই মূল হোতাকে আটক ও ঘটনার রাজস্বাক্ষী নুসরাতকে উদ্ধার করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, হত্যার ঘটনায় তানজিলার বাবা তৈয়ব আলী বেপারী বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং ৪৭ তাং ২৬/১/১৬। একটি সূত্রে জানা গেছে, পুরানবাজার কলিবাগানের সুরুজ মহল এলাকার মৎস ব্যবসায়ী নান্টু হাওলাদারের স্ত্রীর জোৎ¯œার বড় বোন প্রবাসীর স্ত্রী পারুল বেগমের সাথে মম ফ্যাক্টরী মৃত হানিফ জমাদারের ছেলে হাকি জমাদারের দীর্ঘদির পরকিয়া সম্পর্ক চলে আসছিলো। প্রবাসীর স্ত্রী পারুল ছোট বোন জো¯œার বাসায় থাকার সুবাধে হাকি ঐ বাসায় পরকিয়া প্রেমিকা পারুলের সাথে দেখা করতে আসা যাওয়া করতো ঘটনার দিন মঙ্গলবার দুপুরে নান্টুর স্ত্রী জো¯œা পদ্মা লাইফ ইন্সুরেন্সে টাকা জমা দিতে নতুন বাজার যায়। সে সুযোগে তার পরকিয়া প্রেমিকা পারুলের সাথে দেখা করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়।  কাজের মেয়ে তানজিলা বাইরে খেলাধূলা শেষে ঘরে ঢুকে দেখে ফেলে। এসময় নিজেদের অপরাধ ঢাকতে হাকি ও পারুল বেগম তানজিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘটনাকে অন্য দিকে প্রবাহিত করতে টয়লেটে লাশ ঢুকিয়ে আত্বহত্যা বলে চালানোর পায়তারা করে।  ঘটনার পরপরই লাশ গুম করতে হাকির নেতৃত্বে কয়েকজন রাতে ট্রলার যোগে তানজিলার লাশ কাঁথা দিয়ে পেচিয়ে চরে নিয়ে যায়। হত্যার ঘটনা জানাজানি হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুরান বাজার পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে ফোন করে দাফন বন্ধ করে তানজিলার লাশ পুনরায় পুরানবাজারে পাঠাতে বলে।