আজ  শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

ক্রিসেন্ট হাসপাতালের ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু, ঘটনা ধামাচাপা

চাঁদপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা অবহেলা ও ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কারণে অনেক রোগীর অকালে মারা গিয়েছে।
অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পূর্বে রুগীর কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে ডাক্তারের চরম অবহেলার কারণে এই ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
চাঁদপুর শহরের চিত্রলেখা এলাকার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে পিত্তথলির পাথর অপারেশন করতে গিয়ে ডাক্তার একেএম শাহাদাত হোসাইনের ভুল চিকিৎসায় ফাতেমা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর অকাল মৃত্যুর হয়েছে।
অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পূর্বে রোগীর প্রেসার, ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য সমস্যাজনিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই তড়িঘড়ি করে এনেসথেসিয়া ভালোভাবে না করেই অপারেশন করায় এই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত গৃহবধূ ফাতেমা বেগম চাঁদপুর সদর উপজেলা কল্যাণপুর ইউনিয়নের কল্যান্দী গ্রামের ইউসুফ গাজীর স্ত্রী। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
নিহত বোন মাকসুদা বেগম জানান, বোনের পিত্তথলি পাথর অপারেশন করার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্রিসেন্ট হাসপাতাল আনা হয়। রাত ৯ টায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে ডাক্তার একেএম শাহাদাত হোসাইন রুগীর অপারেশন করে। রাত ১১ টায় মুমূর্ষ অবস্থায় অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে এনে হাসপাতালের কেবিনে বেডে এনে রাখেন। এ সময় তার করুণ মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু দালাল চক্র এনে রোগীর স্বজনদের সাথে ঝামেলা শুরু করে লাশ রাতে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করো। এসময় ৯৯৯ ফোন করে ঘটনাটি অবহিত করার পর খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই ফারুক হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ খবর নেন।
এদিকে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১৭ ঘণ্টা লাশ থাকার পর শনিবার বিকেলে নিহত ফাতেমা বেগমের স্বামী সিলেট থেকে চাঁদপুরে এসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সমঝোতা শেষে লাশ নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে ক্রিসেন্ট হাসপাতলের মালিকপক্ষ সোহেলের মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ লাশ নিতে বাধা দেওয়ায় সমাধানের লক্ষ্যে থানায় এসেছি।রোগীর স্বজনদের সাথে সমঝোতা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার একেএম শাহাদাত হোসাইন জানান, অপারেশন করার পূর্বে রোগীকে অ্যানেসথেসিয়া দিয়েছেন ডাক্তার ইলিয়াস। তারপরে অপারেশন করে রোগীকে বিছানায় নেওয়ার পর হঠাৎ তার মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর দুর্ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সব জানতে পারবেন।
পুলিশ জানায়, ক্রিসেন্ট হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনাটি জনৈক এক ব্যক্তি ৯৯৯ ফোন করে পুলিশকে অবহিত করে।
পরে হাসপাতাল থেকে লাশ নামিয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করলেও নিহতের স্বামী সিলেট থাকায় সমাধান হয়নি।
তিনি সিলেট থেকে এসে মামলা করবে না বলে অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর দিয়ে লাশ অবশেষে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়।

শাহরিয়ার খান কৌশিক, মো,০১৭১৩৬৮৮৯২০