আজ  সোমবার, ২০ মে, ২০১৯

ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যুক্ত থাকলে শিক্ষার্থীরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসী থেকে দূরে থাকবে: এমপি রুহুল

Matlab uttar pic 2
আরাফাত আল-আমিন ◊
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১২ টার সময় স্কুুল প্রাঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস। অনুষ্ঠান শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন ধর্মীয় শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি গোলাম রাব্বানী পাপ্পুর সভাপতিত্বে ও ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. রেজাউল করিম ও দাতা সদস্য রমিজ উদ্দিন শিশিরের যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য প্রধান শিক্ষক মো. দলিল উদ্দিন।

আরো বক্তব্য রাখেন, মতলব উত্তর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদ উল্লা প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান প্রধান, গাজী ইলিয়াছুর রহমান, ঢাকা মহানগর শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দেওয়ান জহির, সাধারণ সম্পাদক কাজী শরীফ, জহিরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী মুক্তার হোসেন, অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আজীবন ভোটার নুরুদ্দিন পাটোয়ারী প্রমুখ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চায় সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নুরুল আমিন রুহুল বলেছেন, প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিশুদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটে। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যুক্ত থাকলে শিক্ষার্থীরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ থেকে দ‚রে থাকবে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকাসক্তি থেকে আমাদের ছেলেমেয়েদের দূরে থাকতে হবে। কাজেই সেইভাবে সচ্চরিত্রের আদর্শবান হয়ে বাংলাদেশকে যেন আগামী দিনে নেতৃত্ব দিতে পারে, আমাদের আজকের ছেলেমেয়েদের সেভাবেই নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।

নুরুল আমিন রুহুল আরো বলেন, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা মানুষকে উদারতা শেখায়, সবার সঙ্গে মিশতে শেখায়, সৃজনশীলতা তৈরি করে শিক্ষার্থীদের আনন্দে মাতিয়ে রাখে এবং সমাজে ইতিবাচক ভ‚মিকা রাখার মতো কাজে তাদেরকে উজ্জীবিত করে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন শুধু পড়া, পরীক্ষা আর অসুস্থ প্রতিযোগিতার মধ্য হারিয়ে গেছে সংস্কৃতি চর্চা। শিক্ষাঙ্গনে একসময় সংস্কৃচি চর্চা ও খেলাধুলার সুযোগ ছিল অবারিত। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত সংস্কৃতির নানা বিষয় ও খেলাধুলা চর্চা করতো নিয়মিত। বিদ্যালয়ের পাঠাগারের বই পড়ার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাহিত্যচর্চার অভ্যাস গড়ে উঠত। বই পড়ার সংস্কৃতি নিজের মধ্যে গভীরতা তৈরি করে, ভাবতে শেখায়। নিয়মিত চর্চার এক পর্যায়ে প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই বার্ষিক নাটক, আবৃত্তি, সঙ্গীত , বিতর্ক, অভিনয়, কিরাত প্রতিযোগিতা ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হতো। হতো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। প্রকাশিত হতো বার্ষিক ম্যাগাজিন, দেয়াল-পত্রিকা। শিক্ষার্থীদের ক্রিয়টিভিটি প্রকাশ পেত এগুলোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে।