আজ  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গাইনি ডাক্তার তানিয়ার দায়িত্বে অনিয়ম সদর হাসপাতালে রোগী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দেখার অভিযোগ

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে গাইনী ডাক্তার শামসুন্নাহার তানিয়া তার দায়িত্ব ব্যাপক অনিয়ম করার অভিযোগ উঠেছে।
সদর হাসপাতালে ৮টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ডাক্তার তার কক্ষে বসে রোগী দেখার কথা থাকলেও গাইনি ডাক্তার শামসুন্নাহার তানিয়া হাসপাতালে না বসে প্রাইভেট ভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিদিন রোগী দেখছে।
মঙ্গলবার ১৭ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে বারোটায় এই গাইনি ডাক্তার তানিয়া হাসপাতালে হাজিরা দিয়ে এসে প্রাইভেট ভাবে রোগী দেখার জন্য ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রবেশ করেন‌।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিচতলায় ১০৯ নম্বর কক্ষে গাইনি ডাক্তার শামসুন্নাহার তানিয়ার কাজ থেকে সেবা নেওয়ার জন্য প্রায় শতাধিক রোগী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
সরকারি হাসপাতালে রোগী রেখে শামসুন্নাহার তানিয়া নিজের স্বার্থ হাসিল করতে প্রাইভেট ভাবে ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ৫০০ টাকা ভিজিট নিয়ে রোগী দেখছেন।
এসময় সংবাদকর্মীরা সরকারি হাসপাতালের সম্মুখে মসজিদের পিছনে অবস্থিত ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় শামসুন্নাহার তানিয়া প্রাইভেট ভাবে রোগী দেখছেন।
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে গাইনি ডাক্তার তানিয়া তার কক্ষ থেকে দ্রুত বের হয়ে হাসপাতালের দিকে দৌড় দিতে থাকেন। পরে হাসপাতালে ১০৯ নম্বর কক্ষে গিয়ে বসার পর দায়িত্ব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতলে রোগী হাসপাতালেই দেখেছি, নিজের ব্যক্তিগত কাজে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েছি, মূলত টয়লেট করার জন্য ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েছিলাম। সরকারি জেনারেল হাসপাতালে অনেক ডাক্তারই প্রাইভেট ভাবে রোগী দেখেন তাতে দোষের কি।
সেদিকে সদর হাসপাতালের সেবা নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগী জানায়,হাসপাতাল চলাকালীন সময়ে কোনদিনই গাইনি ডাক্তার শামসুন্নাহার তানিয়াকে তার কক্ষে বসতে দেখিনি। তিনি আসলে হাজিরা দিয়ে হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে প্রাইভেট ভাবে দেখেন।
এছাড়া এই গায়নী ডাক্তার তানিয়া হাসপাতালে রোগী চিকিৎসা না দিয়ে নাভানা হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে রোগীদের গলা কাটে। নরমাল ডেলিভারি না করিয়ে সিজার করে হাজার হাজার টাকা প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে। মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়েট তিনি শহরের নাজিরপাড়া সাততলা ভবন নির্মাণ করে মালিক হয়েছেন। এছাড়া তার ভুল চিকিৎসায় ও অবহেলায় অনেক নবজাতক শিশু ও মায়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ও সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকপক্ষ হাসপাতালে এসে সাংবাদিকদের সাথে সমঝোতা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।