আজ  মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরে অভয়াশ্রমে মেঘনা-পদ্মা নদীতে জাটকা মাছ ধরার হিড়িক, চরাঞ্চলে  আড়তগুলোতে বিক্রি

চাঁদপুরে জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে সকল ধরনের জাল ফেলে মাছ ধরা নিষেধ করেছেন সরকার। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অসাধু জেলেরা পদ্মা মেঘনা নদীতে কারেন্ট জাল ফেলে প্রতিদিন শত শত মণ জাটকা ইলিশ মাছ নিধন করছে।
চাঁদপুরে চরাঞ্চলের তীরবর্তী নদীতে জাটকা ইলিশ মাছ সবচেয়ে বেশি নিধন করছে জেলেরা।
জাটকা মাছ নিধন করে নৌকা তীরে এসে  উপরে উঠিয়ে জাল থেকে মাছ বের করতে শুরু করে।
জাল থেকে মাছ বের করার পর চরাঞ্চলে ভাসমান মাছের আড়তে বিক্রি করছে।
চাঁদপুরের নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন চরাঞ্চলে মাছ নিধন ও বিক্রি করার খবর জানা সত্ত্বেও সেখানে অভিযান না করায় নদীতে জাটকা ইলিশ নিধন দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে,নৌ পুলিশ কোস্টগার্ড ও জেলা ট্রান্সপোর্ট যেসকল স্পিডবোট এবং স্টিল বডি ট্রলার ভাড়া এনে নদীতে অভিযান করছেন সেই চালকদের সাথে জেলেদের কন্ট্রাক থাকে। প্রশাসন যখন নদীতে যায় তখন স্পীডবোট ও ট্রলারের চালকরা ফোন করে তাদেরকে অবহিত করার পরেই নদী থেকে জেলেরা তীরে চলে আসে। প্রশাসন নদী থেকে উপরে আসার পরেই জেলেরা নদীতে মাছ নিধন করতে ব্যস্ত থাকে।
এছাড়া আড়তদার ও জেলেদের নিয়ন্ত্রণাধীন দালালরা নৌ পুলিশের সাথে কন্ট্রাক করে নদীতে জাটকা মাছ নিধন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ড মেঘনা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়,প্রায় শতাধিক জেলে নৌকা অবৈধ কারেন্ট জাল নিয়ে জাটকা মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এসময় জেলেরা জানান, পেটের দায়ে জাটকা ইলিশ মাছ নিধনে নেমেছি। মাছ ধরার পর নদীর তীরে ভাসমান আড়ত গুলোতে বিক্রি করছি। বিভিন্ন সমিতি থেকে কিস্তির নিয়ে জাল নৌকা প্রস্তুত করে নদীতে গিয়েছি। মাছ ধরে বিক্রি করে সেই দেনা পরিশোধ করবো।
অভয়াশ্রম চলাকালে সরকার জেলেদের যে পরিমাণ চাল দিচ্ছে চেয়ারম্যান মেম্বাররা সেই পরিমাণ চাল না দিয়ে বাকি চাল তারা নিজেরাই বিক্রি করে ফেলছে।
এদিকে ভাসমান আড়তদারের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, অভয়াশ্রম চলাকালে মাছ ধরা নিষেধ থাকা সত্ত্বেও জেলেরা মাছ এনে বিক্রি করছে। পুলিশ ও নেতাদের ম্যানেজ করে মাছ কেনাবেচা হচ্ছে। আগের মত অভিযান না থাকায় জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে সাহস পাচ্ছে।  নৌ-পুলিশকে টাকা দিয়ে জেলেরা নদীতে মাছ ধরছে।