আজ  মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনার স্থান তাদার কান্ধী নিয়ে বিতর্ক,জনমনে ক্ষোভ

   চাঁদপুরে ইউনিয়ন যুবলীগ সদস্য নারী কেলেঙ্কারিতে এক যুবককে গণধোলাই দেওয়ায় ঘটনার স্থানকে বিতর্কিত ভাবে উল্লেখ করায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড পশ্চিম বাখরপুর ও সাদুল্লাপুর চড়ে মেঘনা নদীর পাড়ে শনিবার বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার স্থানটি অনেকে বিতর্ক করার জন্য তারার কান্দি বললেও প্রকৃতপক্ষে সেই জায়গাটি হচ্ছে পশ্চিম বাখরপুর ও সাদুল্লাপুর চর এলাকা। ম্যাপ ও কাগজপত্র অনুযায়ী সেই জায়গাটি কোথাও তাদার কান্ধী লেখা নেই।
এই এলাকাটি ব্যঙ্গ করে কিছু লোক তাদার কান্দি বলায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়ন বালিয়া গ্রামের লালু গাজীর ছেলে এমরান গাজী(২৫) একজন চিহ্নিত পতিতা ব্যবসায়ী। সে অনেক মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এনে জীবন নষ্ট করেছে। তার মাধ্যমে চান্দ্রা ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য কালা চান গাজী চাঁদপুর থেকে দুটি যুবতী মেয়েকে অনৈতিক কাজ করার উদ্দেশ্যে নিয়ে আসে।
যুবলীগের সদস্য কালাচান ও তার সহযোগী এমরান গাজী দুই যুবতীকে সাথে নিয়ে নৌকায় বাখরপুর ও সাদুল্লাপুর চরে নিয়ে যায়।
যুবলীগ নেতার নারী কেলেঙ্কারীর কথা জানতে পেরে স্থানীয় যুবকরা চরে গিয়ে তার সহযোগী পতিতা ব্যবসায়ী ইমরানকে গণধোলাই দেয়।
এসময় প্রাণ বাঁচাতে ওই দুই যুবতী গুচ্ছগ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
এই ঘটনার স্থানকে বিতর্কিত করার জন্য কিছু কুচক্রী মহল সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে তারার কান্ধী ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানায়।
২ নং ওয়ার্ড বাখরপুর গ্রামের মানুষের মধ্যে ছিল অনেক ঐক্য,একজন আরেকজনের বিপদে-আপদে সবাই মিলে এগিয়ে আসতো।
এই কারণে পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ হিংসা করে এলাকাটি বিতর্কিত করার জন্য তাদার কান্দি বলতে থাকে।
এ বিষয়ে ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খানজাহান আলী পাটোয়ারী কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বাখরপুর গ্রামে তাদার কান্দি বলে কোন জায়গা নেই।
ম্যাপে ও কাগজপত্রে বাখরপুর উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই এলাকায় বিখ্যাত কোন লোক ছিল সেই লোকের নামেই তাদার কান্দি অনেকেই উল্লেখ করে বলতো। প্রকৃত পক্ষে ওই এলাকার নাম পশ্চিম বাখপুর গ্রাম।
ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য কালাচানের নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা যায়। এই এলাকায় এ ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি বলে অনেকে জানান। তবে পত্রিকা ও অনলাইন পত্রিকায় ঘটনার স্থানটি বিতর্কিতভাবে উল্লেখ করায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এদিকে ইউনিয়ন যুবলীগের বিতর্কিত সদস্য কালাচান এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এসকল অসাধু ব্যক্তির জন্য রাজনৈতিক দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।