আজ  বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

চাঁদপুরে পিবিআইর জালে আটক ধর্ষণ ফয়সাল স্বীকারোক্তি, বিয়ে করতে অস্বীকৃতি

    চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রোড রাশেদিয়া জামে মসজিদের ইমাম ফয়সাল আহমেদ খান মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআইর)জালে অবশেষে আটক হয়েছে।

মসজিদের সাথে একটি কক্ষে মাদ্রাসা ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করার ঘটনায়
ধর্ষিতা মেয়ের মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে লম্পট ইমাম ফয়সাল আহম্মেদকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করে।
মামলাটি প্রথমে চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ তদন্ত করলেও আসামীকে গ্রেফতার করতে না পারায় অবশেষে আদালত মামলাটি পিবিআইর কাছে হস্তান্তর করেন।   পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ফারুক হোসেন আধুনিক প্রযুক্তি অবলম্বন করে ঢাকা টিকাতলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটক ধর্ষক ইমাম ফয়সাল ধর্ষণের ঘটনাটি স্বীকার করেন এবং মেয়েকে বিয়ে করবে না বলে অস্বীকৃতি জানান।
শনিবার তাকে আটক করে চাঁদপুরে নিয়ে আসার পর তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
ধর্ষণ মামলার আসামি ফয়সালের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
ধর্ষণের ঘটনায় পিবিআইর তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল খানের বিরুদ্ধে আদালতে রিমান্ড আবেদন করবে বলে জানা যায়।
ধর্ষিতা কিশোরী সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের ফাজিল ডিগ্রী দাখিল মাদ্রাসা দশম শ্রেণীর ছাত্রী।
মাদরাসার ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্ষক ইমামকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফারুক হোসেন জানায়, মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় এর সাথে উপযুক্ত ইমাম ফয়সাল আহম্মেদের নামে মামলা দায়ের করা হলে আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে তদন্ত দেন। অবশেষে পিবিআইর ইনচার্জ মাহবুবের নির্দেশে আধুনিক প্রযুক্তি অবলম্বন করে ঢাকা টিকাতলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে লম্পট ইমাম ফয়সালকে আটক করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাটি সমঝোতা করতে ফয়সাল মাদ্রাসা ছাত্রীর পরিবারের সাথে মোবাইলে ফোন করে ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্বীকার ও বিয়ে করবে বলে স্বীকার করেন। সেই কল রেকর্ড আমাদের কাছে রক্ষিত রয়েছে।এছাড়া এই ধর্ষণের সহযোগিতা ও ঘটনা ধামাচাপা দিতে যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, রাশেদিয়া জামে মসজিদের ইমাম ফয়সাল মসজিদে থেকে এই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে তা খুবই নেক্কারজনক ঘটনা। মাদ্রাসার ছাত্রী মসজিদে পড়তে এসে এই ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আমরা এই ধর্ষক ফয়সালের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

ধর্ষিতার মা জানান, রাশেদিয়া জামে মসজিদের ইমাম ফয়সাল এর কাছে প্রতিদিন সকাল ছয়টায় মেয়ে কোরআন শরীফ তেলাওয়াতের জন্য মসজিদে যায়।
এ সময় লম্পট ফয়সাল মসজিদ এর অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটি দেওয়ার পর মসজিদের সাথে তার রুম পরিষ্কার করার জন্য বলে।
এ সময় ইমাম ফয়সাল সুযোগ বুঝে তার রুমে ঢুকে দরজা আটকে জোরপূর্বক মেয়েকে ধর্ষণ করে ও মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখে।
মেয়েকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও তার নগ্ন ছবি মানুষকে দেখাবে বলে হুমকি দিয়ে প্রতিদিন তার সাথে অবৈধ মেলামেশা করতো।
আমরা লম্পট ইমাম ফয়সাল আহমেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তার ফাঁসি চাই।

শাহরিয়ার খান কৌশিক, মো,০১৭১৩৬৮৮৯২০