আজ  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরে ব্যাক্তিস্বার্থে সরকারি স্কুলের গাছ কাঁটার অভিযোগ

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ চাঁদপুর শহরে ব্যাক্তিস্বার্থে ৫নং বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কেঁটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
১৮ জানুয়ারি শনিবার এ অভিযোগ করেন ওই বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি তপন সরকার,প্রধান শিক্ষক তাহমিনা বেগম,সহকারী শিক্ষক রায়হানা আক্তার সুরমা,ফৌজিয়া সুলতানা,ওমর ফারুক,মাহফুজা আক্তার সহ শিক্ষার্থীরা।তারা জানান,শুক্রবার রাতের আঁধারে ব্যাক্তিস্বার্থে স্কুলের গাছ কেটে ফেলেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী নারায়ন পোদ্দার।যিনি পৌরসভার এক কর্মচারী জহিরের যোগসাজসে এই অপকর্মটি করেছেন।আর এই গাছ কাটার খরছ উঠাতে আশ-পাশের দোকানপ্রতি ১ হাজার টাকাও দাবী করেন ওই নারায়ন।তারা আরো জানান,একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালের ভিতরের গাছটি কেটে ফেলা এক আশনী সংকেত।আমাদের কে না জানিয়ে পৌরসভার নাম ভাঙ্গিয়ে এ কাজ করতে চাওয়া ভয়াবহ অন্যায়।এমনকি এ বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর পর্যন্ত জানেনা।আমরা বিষয়টি নিয়ে ডিপিও স্যার ও পৌর মেয়র মহোদয় সহ প্রশাসনের দারস্থ হওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি।এ ব্যপারে অভিযোগ উঠা নারায়ন পোদ্দারের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।তবে তার ছেলে রন্টি পোদ্দার জানান,আমার বাবার কোন দোষ নেই।তিনি পৌরসভার মার্কেটিং পরিদর্শক জহিরের নির্দেশে এ কাজ করেছেন।আর দোকান প্রতি ১ হাজার টাকা চেয়েছে সেটিও ওই জহিরের নির্দেশেই।এ ব্যপারে পৌরসভার মার্কেটিং পরিদর্শক জহির জানান,আমি গাছ কাটতে বলিনি।মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে ওই স্থান পরিদর্শন করতে গিয়েছি কিছুদিন পূর্বে।যেখানে নারায়নের দোকানে ওই স্কুলের গাছটির পাতা পড়ার অভিযোগ ছিলো।তাই ওকে গাছটির পাতা কিছুটা টেঙ্গে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিলো। তাছাড়া স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাথে নারায়ন পোদ্দারের পূর্বের কোন দন্দ থাকতে পারে।তাই হয়তো তিনি ওখানে দাঁড়িয়ে থাকাতেও তারা তাকে দোষী করছে।তবে এ ঘটনায় তার দায়িত্ব অবহেলা হয়েছে কিনা বিষয়টি এড়িয়ে যান।এদিকে এই ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ডিএম শাহজাহান।তিনি বলেন,আমি পৌরসভার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।এখানে আমাকে না জানিয়ে পৌরসভা কর্তৃক এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।হয়তো অন্য কোন অসৎ পরিকল্পনা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।এ সময় ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসেন পৌরসভার ফয়সাল।তিনি জানান,মেয়র সাহেব গাছ কাটার নির্দেশনা দেয়নি।হয়তো ডাল পালা একটু ছাঁটাই করতে বলেছে।তাই বলে এভাবে গাছের এতো বড় অংশ কেটে ফেলা ঠিক হয়নি।জহির সাহেবের দায়িত্ব পালনে হয়তো কোথাও ভুলভ্রান্তি হয়েছে।এ ব্যপারে জেলা স্কাউটের সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার ভৌমিক জানান,একটি সরকারি স্কুলের সীমানায় থাকা গাছটি কেটে ফেলার উদ্দেশ্য ছিলো নারায়ন সহ সংশ্লিষ্টদের।তারা সেই উদ্দেশ্যে গাছের বেশকিছু ডালপালা মারাত্মকভাবে কেটেও ফেলেছে।পুরো গাছ কেটে ফেলার মুহুর্তে স্থানীয় সচেতনদের বাঁধার মুখে পড়তে হয় তাদের।পরে গাছের ডাল পালা ফেলেই তারা পালিয়ে যায়।এই গাছ কাটতে গিয়ে ওরা আমার ওয়াইফাই লাইনের তার পর্যন্ত ছিড়ে ফেলেছে।বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাই।এ ব্যপারে পৌরসভার প্যাণেল মেয়র সিদ্দিকুর রহমান ঢালী জানান,শুনেছি স্কুলটিতে প্রায় ২’শ শিক্ষার্থী রয়েছে।জহির আর নারায়নের বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সলর আমাকে অবহিত করেছে।এ ব্যপারে মেয়র মহোদয় এসে সিদ্ধান্ত নেবেন।