আজ  সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০

চাঁদপুরে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে সপ্রবিতে চাকরি, কর্তৃপক্ষ নিরব

   চাঁদপুরে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন, ভোটার আইডি কার্ড ও শিক্ষাগত সার্টিফিকেট দেখিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ বছর যাবৎ চাকরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চাঁদপুর  ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৯নং দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী নুরু-জ্জামান তপাদার
ভুয়া কাগজ পত্র দিয়ে চাকরি করে সরকার থেকে বেতন ভাতা নিয়ে যাচ্ছে মাসের পর মাস।
এই ঘটনা জেনেও না জানার ভান করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
২০১৩ সালে সরকারে সিধান্ত অনুযায়ী সারা বাংলাদেশের প্রাইমারী স্কুল গুলোতে চুক্তিবিত্তিক দপ্তরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় যে প্রার্থীকে ৩০ বছরের কম হতে হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম পাস হতে হবে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্কুল প্রধান শিক্ষক এর সিধান্ত মোতাবেক ৩৯ বছর বয়সে নিয়োগ হয় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিধুবা ইউনিয়নের ৯নং দেবীপুর সরাকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি নুর-জামান তপাদারের।
নুরু -জ্জামান তপাদার জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী দেখা যায় তার জন্ম ১০ জুলাই ১৯৭২ সালে। যে নিয়োগ কালীন সময় ২০১৩ সালে তার বয়স ছিলো ৩৯ বছর। ৩৯ বছর বয়সে সে কি করে চাকুরী পেলো তা জানতে চাইলে নুরুজামান বলেন,  ভোটার আইডি কার্ডে ভুল জন্ম তারিখ তার সঠিক জন্ম তারিখ হলো ১ জানুয়ারি ১৯৮৬ সালে। জন্ম নিবন্ধনে তার সঠিক বয়স উল্লেখ্য রয়েছে। জানা যায়, নরুজ্জান তপাদার ১লা ফেব্রুয়ারি ২০০১ সালে ১৬০০ নং কাবিন নামায় তখন ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করে। এখন জন্ম নিবন্ধ যদি সঠিক হয় তাহলে বিয়ের সময় বয়স হলো ১৭ বছর ১ মাস। তাহলে কাবিনে কেন ২০০১ সালে ২৫ বছর ? দেখা যাচ্ছে যে জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটাধিকারের জন্ম ১০.০৭.১৯৭২, জন্ম নিবন্ধন জন্ম তারিখ ০১.০১.১৯৮৬ এবং কাবিননামায় ২০০১ সালে বয়স ২৫ বছর।
শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী নুরুজ্জামান তপাদার ইসলামপুর শাহ ইয়াসিন মাদ্রাসা থেকে অষ্টম পাশের একটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে। সার্টিফিকেটে দেখা যায় সে ১৯৯৮ সালে অষ্টম পাস করে। মাত্র ১২ বছর বয়সে কিভাবে অষ্টম পাস করল সেখানেও প্রশ্ন থেকে যায়? নিয়োগ কালীন সময় স্কুলে যেসকল সার্টিফিকেট ও ছাড়
পত্র জমা দিয়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা যাচ্ছে যে সার্টিফিকেট ও ছাড় পত্রে দুইটির একটিতেও কোন ক্রমিক নম্বর উল্লেখ করা নেই।

৯নং দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলরুবা খানমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কাগজপত্র সঠিক পেয়েছি তাই নিয়োগ দিয়েছি, আর যদি কোন ভুল থাকে তাহলে সেটা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি জানে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, নুরুজ্জামান তাপাদার কোন পড়ালেখা করেনি। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার সিল সাইন নকল করে ভুয়া কাগজপত্র করত। এছাড়াও দীর্ঘ কয়েক বছর চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সে পাসপোর্ট এর দালালি করতো। পরে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে লক্ষ টাকার বিনিময় ম্যানেজিং কমিটি সদস্যদের ম্যানেজ করে প্রাইমারি স্কুলে সরকারি চাকরিতে  নিয়োগ পায়। এই প্রতারক এর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল