আজ  শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরে মাদ্রাসার ছাত্র বলাৎকারের ঘটনায় থানায় মামলা, কমিটি ঘটনা ধামাচাপা চেষ্টা

 

চাঁদপুর সদর উপজেলা ১২ নং চন্দ্রা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ বালিয়া জামিয়া আরাবিয়া ফাতেমার উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিশু ছাত্র বলাৎকারের ঘটনায় মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার সকালে নির্যাতিত শিশুর বাবাকবির হোসেন পাটোয়ারী বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মমিনুল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে এর সত্যতা প্রমাণ পান।
এদিকে ঘটনার পরে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদকআবুল খায়ের গাজী বাইতুল আমান জামে মসজিদের সভাপতি গাজী সহ-সভাপতি জালাল আহমেদ গাজী ও স্বপন গাজী সালিশি বৈঠকে বসে ঘটনার সমাধান না করেই অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আইয়ুবকে পালানোর জন্য সহযোগিতা করেন।এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কমিটির লোকজন তৎপর হয়ে উঠেছে।
পুলিশ তদন্ত করে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির অবহেলা ও নিয়োগের সময় তার নাম-পরিচয় ঠিকানা মাদ্রাসা কোন কাগজে কলমে না রাখার বিষয়টি প্রমাণ পান।তিন দিনের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষক আইয়ুবকে হাজির করার জন্য কমিটির লোকজনকে নির্দেশ প্রদান করেন।
মাদ্রাসার ১২ বছর বয়সী শিশু ছাত্র আব্দুর রহমান ও রিফাত হোসেনকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে দুই মাস যাবত মাদ্রাসার লম্পট শিক্ষক আইয়ুব জোরপূর্বক বলাৎকার করে।
আহত দুই ছাত্রকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আইয়ুব ভোলা জেলার শশীভূষণ উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মোঃ মালেকের পুত্র।
এই বলাৎকারের ঘটনা জানতে পেরে শিশুদের পরিবারবর্গ ঘটনাটি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আতাউর জ্জমান গাজী ও সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের গাজীকে অবহিত করার পর তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষক আইয়ুকে মাদ্রাসা থেকে পালানোর জন্য সহযোগিতা করেন।
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের গাজী, বাইতুছ ছামাদ জামে মসজিদের সভাপতি উম্মেদ গাজী, সহ-সভাপতি জালাল আহমেদ গাজী ও স্বপন গাজী ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আইয়ুবের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকে সন্ধ্যার পর মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুদের পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে এই ঘটনা জানাজানি হওয়ায় পরেই এলাকার লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে লম্পট শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ও মাদ্রাসা বন্ধ করার দাবি জানিয়ে ঘেরাও করে।
এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা লম্পট শিক্ষক আইয়ুবকে পালানোর জন্য সহযোগিতা করার অভিযোগে কমিটির সহ-সভাপতি স্বপন গাজীকে উত্তম-মধ্যম দেয়।

নির্যাতনের শিকার মাদ্রাসার ছাত্রের পরিবারবর্গ জানায়, দুই মাস যাবত শিক্ষক আইয়ুব ভয়-ভীতি দেখিয়ে দিনে ও রাতে মসজিদের ছাদে নিয়ে বলাৎকার করেছে। এই ঘটনা কাউকে জানালে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।
মাদ্রাসা থেকে বের হতে না দেওয়ায় ও নজর বন্দি করে রাখার কারণে এই ঘটনাটি পরিবারের কাউকে জানানো যায়নি। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে খবর পেয়ে সোমবার রাতে পরিবারের লোকজন মাদ্রাসায় আসলে ঘটনাটি জানানো হয়।
চান্দ্রা ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান খানজাহান আলী কালু পাটোয়ারী জানান, মাদ্রাসার ছাত্র বলাৎকারের ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনা অভিযুক্ত শিক্ষক আইয়ুবের বিচারের দাবী জানাই। নির্যাতন হওয়া শিশু দুজনের পায়ুপথে ঘা হয়ে গেছে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।