আজ  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরে মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে দুই মাস যাবত বলাৎকার, অভিযুক্ত শিক্ষক পলায়ন,

 

চাঁদপুরে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও গ্রামগঞ্জে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে মাদ্রাসা।
সরকারের কাজ থেকে অনুমতি না নিয়ে এসব মাদ্রাসা গড়ে ওঠার কারণ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ ও অপকর্মের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।
চোখ লজ্জা ও ভয় ভীতি কারণে মাদ্রাসায় শিশু ছাত্র বলাৎকার ও ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা আড়ালে থাকায় অনেকটা ধামাচাপা পড়ে যায়।
চাঁদপুর সদর উপজেলা ১২ নং চন্দ্রা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ বালিয়া জামিয়া আরাবিয়া ফাতেমার উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিশু ছাত্র বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে। মাদ্রাসার ১২ বছর বয়সী শিশু ছাত্র আব্দুর রহমান ও রিফাত হোসেনকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে দুই মাস যাবত মাদ্রাসার লম্পট শিক্ষক আইয়ুব জোরপূর্বক বলাৎকার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আইয়ুব ভোলা জেলার শশীভূষণ উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মোঃ মালেকের পুত্র।
এই বলাৎকারের ঘটনা জানতে পেরে শিশুদের পরিবারবর্গ ঘটনাটি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আতাউর জ্জমান গাজী ও সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের গাজীকে অবহিত করে ও অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষক আইয়ুবের বিচারের দাবি জানান।
কিন্তু মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের গাজী, বাইতুছ ছামাদ জামে মসজিদের সভাপতি উম্মেদ গাজী, সহ-সভাপতি জালাল আহমেদ গাজী ও স্বপন গাজী ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আইয়ুবের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকে সন্ধ্যার পর মাদ্রাসা থেকে পালানোর জন্য সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুদের পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে এই ঘটনা জানাজানি হওয়ায় এলাকার লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে লম্পট শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ও মাদ্রাসা বন্ধ করার দাবি জানিয়ে ঘেরাও করে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা লম্পট শিক্ষক আইয়ুবকে পালানোর জন্য সহযোগিতা করার অভিযোগে কমিটির সহ-সভাপতি স্বপন গাজীকে উত্তম-মধ্যম দেয়।
খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মঙ্গলবার দুপুরে বলাৎকার হওয়া শিশু দুজনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
নির্যাতনের শিকার মাদ্রাসার ছাত্র আব্দুর রহমান ও রিফাত হোসেন জানায়, দুই মাস যাবত শিক্ষক আইয়ুব ভয়-ভীতি দেখিয়ে দিনে ও রাতে মসজিদের ছাদে নিয়ে বলাৎকার করেছে। এই ঘটনা কাউকে জানালে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।
মাদ্রাসা থেকে বের হতে না দেওয়ায় ও নজর বন্দি করে রাখার কারণে এই ঘটনাটি পরিবারের কাউকে জানানো যায়নি। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে খবর পেয়ে সোমবার রাতে পরিবারের লোকজন মাদ্রাসায় আসলে ঘটনাটি জানানো হয়।
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক শরীয়ত উল্লাহ জানান, এই ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক এই বিষয়ে যদি আগে জানা যেত তাহলে এমন ধরনের ঘটনা আর হতোনা। শিশু বলাৎকারের ঘটনাটি জানতে পেরে কমিটির লোকজন মাদ্রাসা বসে সমাধান করার চেষ্টা করে । এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক আইয়ুব তার মাল সামানা নিয়ে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়।
মাদ্রাসায় দুই মাস পূর্বে শিক্ষক মোহাম্মদ আইয়ুব যোগদান করেছেন কিন্তু তার ঠিকানা, পরিচয় পত্র, ছবি, মাদ্রাসার কমিটির লোকজন রাখেননি।
চান্দ্রা ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান খানজাহান আলী কালু পাটোয়ারী জানান, মাদ্রাসার ছাত্র বলাৎকারের ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনা অভিযুক্ত শিক্ষক আইয়ুবের বিচারের দাবী জানাই। নির্যাতন হওয়া শিশু দুজনের পায়ুপথে ঘা হয়ে গেছে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

শিি