আজ  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ ভান্ডারিদের আস্তানা, বসতঘরের পাশে খোলা টয়লেটে জনদুর্ভোগ

চাঁদপুর শহরের ৩ নং কয়লাঘাট এলাকায় রেলওয়ের জায়গা দখল করে বহু বছর যাবত অবৈধভাবে ভান্ডারিদের নামে আস্তানা দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রেলওয়ের কাছ থেকে কোনো ধরনের লিজ না নিয়ে জোরপূর্বক ঘনবসতি এলাকায় বসত ঘরের পাশে খোলা টয়লেট তৈরি করেছে।
এতে করে মলমূত্র ও প্রসাব বসতঘরে ঢুকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ায় এলাকার জনগণের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সোরহাব বেপারী বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, যার ডাইরি নং ৩৯০, তারিখ, ৭/৩/২০২০।
ঘটনার পরই চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ ৩ নং কয়লাঘাট রেলওয়ের জায়গা অবস্থিত ভান্ডারিদের আস্তানায় গিয়ে খোলা টয়লেট বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেয়।
অভিযোগকারী সোরহাব বেপারী জানায়, রেলওয়ে জায়গায় বহু বছর যাবত কিছু ভান্ডারী লোকজন দরবারে মুসাবীয়ার নামে ভুয়া আস্তানা দিয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ করে আসছে। তারা এখানে কোন নামাজ না পড়ে শুধু একটি চেয়ারকে সামনে রেখে সেজদা করে অনেক মানুষের ধোকা দিয়ে আসছে। এই আস্তানার উরুষ শরীফের নামে ধোকা দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করে তারা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। ঘনবসতি এলাকায় এভাবে তারা আস্তানায় বসে গাঁজা সেবন সহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ করে আসছে।বেশ কয়েকবার এই আস্তানার লোকজনদের পুলিশ আটক করেছে। এই আস্তানার পিছনে বসতঘরের পাশে খোলা টয়লেট তৈরি করেছে। এই মলমূত্র ঘরের ভিতরে ঢুকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়ে আশেপাশের লোকজন চরম দূর্ভোগে পড়েছে। তাদেরকে বাধা দেওয়ায় তারা সন্ত্রাসীদের এনে হুমকি দিয়ে আসছে। এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তারা পালিয়ে যায়।
এদিকে আস্তানার আশেপাশে থাকা ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন মহিলা পুরুষ জানায়, ১৯৮৮ সালে থেকে রেলওয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে কিছু ভুয়া ভান্ডারীর লোকজন এখানে আস্তানা তৈরি করে। এই আস্তানার  মদদ দিচ্ছে রুহুলামিন, বাবু ,মানিক ,জহির ও শহীদ গাজী সহ বেশ কয়েকজন।
নামাজের সময় তারা মাইক বাজিয়ে গান বাজনা করে গাঁজা সেবনে মগ্ন থাকে। বসত ঘরের পাশে তারা খোলা টয়লেট ও প্রসাব খানা ব্যবহার করায় স্থানীয়দের চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
এলাকার মানুষ এর প্রতিবাদ করলে তাদের কেউ প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এই ভুয়া ভান্ডার শরীফ উচ্ছেদ করার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন সচেতন মহল।