আজ  মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরে ৫০ বছরের রাস্তা বেড়া, প্রতিবাদ করায় হামলার সেনাসদস্য সহ আহত ৩, থানায় অভিযোগ

 

চাঁদপুর সদর উপজেলার ২ নং আশিকাটি ইউনিয়নের হাফানিয়া গ্রামে ২ সেনা সদস্যের বাড়ির ৫০ বছরের পুরনো চলাচলের রাস্তা বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে প্রতিপক্ষরা।
প্রতিবাদ করায় অতর্কিত ভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে সেনা সদস্য মমিনসহ তার বাবা ও বোনকে গুরুত্বর আহত করেছে।
রবিবার রাতে ২ নং আশিকাটি ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সামনে এম এ নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে মিজানুর রহমান মিজির বাড়ির চলাচলের রাস্তায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।
এই ঘটনায় হামলাকারী শামীম মিজি, আশিকুর রহমান বাবু, মোঃ শাহ আলম, রহিমা বেগম, হাওয়া বেগমকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
প্রতি হিংসা ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষে প্রতিপক্ষ মোঃ শাহ আলম মিজি চলাচলের রাস্তা বাঁশের খুঁটি বসিয়ে দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। গত
আশিকাটি হাপানিয়া গ্রামের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সামনে এম এ নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয় পিছনে মিজানুর রহমান মিজির ছেলে ২ সেনাবাহিনী সদস্য সহ তার ৭ ছেলের বাড়ির রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়।
এই ঘটনায় পুরনো রাস্তা ফিরে পাওয়ার জন্য সমাধানের লক্ষ্যে মিজানুর রহমান মিজি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত ওসি ক্রাইম নাজমুল দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার সালিশী বৈঠক করলেও এর সমাধান হয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর (সার্কেল) জাহেদ পারভেজের নির্দেশনায় চাঁদপুর সদর উপজেলার কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি মোহাম্মদ জিন্না নেতৃত্বে ২রা আগস্ট বিকাল ৩ঘটিকায় শাহ আলম মিজির বাড়িতে একটি সালিশি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। মিজানুর রহমানের পক্ষ সালিশি বৈঠকে বসার জন্য প্রস্তুত থাকলেও শাহ আলম মিজিরা পূর্বের মত বিভিন্ন তাল বাহানা করে উক্ত বৈঠকটি কাউকে তোয়াক্কা না করে বাতিল করে। ঐদিন বাড়ির মসজিদে মিজানুর রহমান মাগরিবের নামাজ পড়তে গেলে তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্বামী ও তার স্ত্রী রহিমা বেগমের নেতৃত্বে মিজানুর রহমানের গায়ে উল্লেখিত বিবাদীরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা করে। ওই সময় তারা মিজানুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চিপে ধরে বুকে পিঠে এলোপাতাড়ি লাথি ও ঘুসি মারতে থাকে। মিজানুর রহমানের ডাক চিৎকারে তার মেয়ে রওশন আরা বেগম ও সেনা সদস্য মমিন তার বাবাকে রক্ষা করতে আসলে প্রতিপক্ষ শাহ আলম মিজিরা রওশনারা বেগম ও মমিনকে মারধর করে বলে এলাকাবাসী জানান। এ সময় শামীম মিজি ও আশিকুর রহমান বাবু রওশনারা বেগমকে শ্লীলতাহানি করে তার গলা থেকে ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। এ সময় এলাকাবাসী ও মিজানুর রহমানের অন্যান্য ছেলেরা মিজানুর রহমান ও তার মেয়ে রওশনারা ছেলে মমিনকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। চাঁদপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান মিজানুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বর্তমানে সদর হাসপাতাল ভর্তি রয়েছে।
এ বিষয়ে সেনা সদস্য মমিন মিজি জানায়, দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত নিজের পৈতৃক সম্পত্তির উপর বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছি।
কিন্তু প্রতিপক্ষ শাহ আলম মিজি রাস্তা জায়গা বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় আইন মোতাবেক এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছি।
চলাচলের রাস্তার দৈর্ঘ্য মাত্র ৬০ ফুট ৮২ পয়েন্ট জায়গা তাদের হওয়ায় কারণে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রাস্তায় বেড়া দিয়ে দেয়।
শাহআলম মিজির স্ত্রী রহিমা বেগম চাঁদপুর সোনালী ব্যাংকের ট্রেজারি শাখায় চাকরি করে, তিনি সেই ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ঘটনার দিন তার নির্দেশেই বহিরাগত লোকজন এনে এই হামলার ঘটনাটি ঘটায়।
আমরা এই হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

শাহরিয়ার খান কৌশিক,মো,০১৭১৩৬৮৮৯২০