আজ  শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

চাঁদপুর জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী ফুটবল টূর্ণামেন্ট মতলব উত্তরে খেলোয়াড়দের উপর বহিরাগতদের হামলা : খেলোয়াড়সহ আহত ৯

M1

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি ॥
চাঁদপুর পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার কর্তৃক আয়োজিত ‘প্রথম আন্তঃজেলা মাদকবিরোধী ফুটবল টূর্ণামেন্ট ২০১৭’ এর অংশ হিসেবে মতলব উত্তর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে ৮নং ওয়ার্ড বনাম ৬নং ওয়ার্ড খেলায় বহিরাগতদের হামলায় খেলোয়াড়, ইউপি মেম্বার ও বহিরাগতসহ মোট ৯ জন গুরুতর আহত হন। গত ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার ঘনিয়ারপাড় মাঠে খেলা চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৮নং ইউপি মেম্বার বাবুল হোসেন বলেন, মাদকবিরোধী ওয়ার্ড পর্যায়ে খেলায় আমার দল ও ৬নং ওয়ার্ড খেলায় অংশ গ্রহন করে। খেলা চলাকালীন যখন ৩-১ গোলে ৮নং ওয়ার্ড এগিয়ে ঠিক তখনই রেফারী সিরাজ উদ্দিন হ্যান্ডবলের সংকেত দেন। এ সংকেত নিয়ে ৬নং ওয়ার্ড দলের খেলোয়াড়রা রেফারীর সাথে পরিকল্পিতভাবে তর্কে জড়িয়ে পরে। ৮নং ওয়ার্ড খেলোয়াড়রা রেফারীর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলার পরই ৬নং ওয়ার্ডের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় ঘনিয়ারপারের পরিমল শীলের ছেলে উত্তম শীল, নজরুল ইসলামের ছেলে নুরুজ্জামান, সিরাজ ডাক্তারের ছেলে টিটু, আজিজ বেপারীর ছেলে আলমগীর হোসেন, রফিকের ছেলে বাবু’সহ আরো অজ্ঞানামা কয়েকজন বহিরাগত লোক এসে ৮নং ওয়ার্ড খেলোয়াড়দের তাদের উপর হামলা দেয়। এসময় মারামারি থামাতে গিয়ে আমি ও দূর্গাপুর গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে আরিফ (২২) আহত হন। এছাড়াও আমার ৮নং ওয়ার্ডের খেলোয়াড় অপু (১৮), শাওন (১৬), ইমাম হোসেন (১৭), মো. রনি (১৮), মহিউদ্দিন (১৮), ফাহিম (১৭) ও ইসমাইল (১৬)সহ আরো কয়েকজন মারাত্মাকভাবে আহত হয়েছে। তাদের মাথায়, হাতে ও পায়ে আঘাত করে রক্তাক্ত ও জখম করে।
বাবুল মেম্বার আরো বলেন, টূর্ণামেন্টের প্রথম শর্ত হলো ওয়ার্ড পর্যায়ে খেলায় অন্য ওয়ার্ড থেকে খেলোয়াড় নিতে পারবে না। কিন্তু পরে জানতে পারি যে, ৬নং ওয়ার্ডে ঘনিয়ারপাড় থেকে ২ জন, ঝিনাইয়া থেকে ২ জন ও ইসলামাবাদ থেকে ১ জন খেলোয়াড় ভাড়ায় এনেছে। যার কারনে এ মারামারি ঘটনাটি ঘটেছে। তাছাড়াও খেলায় পুলিশ থাকার কথা থাকলেও পুলিশ উপস্থিত ছিল না। ফলে মারামারি আরো বড় আকারে ধারন করেছে। এঘটনায় মামলা পক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান বাবুল মেম্বার।
৪নং ওয়ার্ড মেম্বার ফারুক হোসেন বলেন, নিশ্চিন্তপুর মাঠে খেলা পরিচালনা করার জন্য মাঠ চাইলে মতিন মেম্বার মাঠ দিতে রাজি হননি। ফলে দুই দলের সমন্বয়ে খেলা ঘনিয়ারপাড়ে হয়েছে। আমার জামানতে দুই দলেই বহিরাগত খেলোয়াড় ছিল। তবে কোন দলের অভিযোগ পাইনি। খেলার দুইদিন আগে আমি পুলিশকে জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশ উপস্থিত থাকে নি। তবে এ ধরনের একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যাওয়ার কারনে আমি খুবই লজ্জিত।
দূর্গাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ডালিম বলেন, মাদকবিরোধী ফুটবল টূর্ণামেন্টের প্রতিটি ম্যাচে পুলিশ থাকার কথা। কিন্তু আমার জানামতে, পুলিশকে বলার পরও ওই ম্যাচে পুলিশ উপস্থিত ছিল না। যার কারনে বড় ধরনের মারামারি হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
দূর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আবুল খায়ের বলেন, আমার জানামতে ঘনিয়ারপাড়ের স্থানীয় বহিরাগতরা এসে আমার খেলোয়াড়দের বেধর মারপিট করেছে। আইনগত পক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমি চাঁদপুর পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
এ ব্যাপারে মতলব উত্তর থানার ওসি মো. আনোয়ারুল হক বলেন, স্ব-স্ব ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের খেলা স্থানীয় এলাকায়ই পরিচালিত হবে। কিন্তু কালাম মেম্বার চালাকি করে খেলার ভেন্যু পরিবর্তন করে ঘনিয়ারপাড় নিয়ে এসেছে। এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। তবে আমরা আহত খেলোয়াড়দের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। আহতদের পক্ষ মামলা করতে চাইলে আমরা মামলা নেবো।