আজ  বৃহঃবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চাঁদপুর দাসাদী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

চাঁ

নোভেল করোনা ভাইরাস তথা কোবিড-১৯ আজ বৈশ্বিক মহামারী আকার ধারন করেছে।
আর এ সময় সরকারি ও বেসরকারি সকল কর্মযজ্ঞ বন্ধ করেছে সরকার।
মহামারী করোনা ভাইরাস ও দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চাঁদপুর দাসাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।
ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় অভিযোগে
এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন।
দাসাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ তলা ভবনের ফেসেলিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দে গোধূলি এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। পরবর্তীতে ঠিকাদার তপন কুমার সেই কাজটি স্থানীয় ঠিকাদার শাহাদাৎ ও শাহেদ এর কাছে ভবনের কাজটি বিক্রি করে ফেলে।
কাজের শুরুতে নিম্নমানের ইট ও নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করলে বেশ কয়েকবার বাধার সম্মুখীন হয় ঠিকাদার। পরবর্তীতে
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ভবনের চতুর্থ তলার ছাদের ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। এ সময় দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান উপস্থিত না থেকে কাজ শুরু করায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে কাজটি বন্ধ করে দেয়। এসময় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটোয়ারী ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজ করা জবাব চাইলে তার সাথে হট্টগোল শুরু হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষোভ শুরু করলে পরবর্তীতে ঠিকাদার সাহেদ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার কাজের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম করেছে। নিম্নমানের ইট ও নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে রাতের আঁধারে দ্রুত কাজটি করেছে। ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত না থেকে ঠিকাদারের লোকজন কাজ করার কারণে এলাকাবাসী বাধা দেয়। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় যে কোন সময়ে এই ভবনটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটোয়ারী জানান, স্কুল কমিটির সভাপতি হলেও এই স্কুল অনিয়মের বিষয়ে তদারকি করতে গেলে ঠিকাদারদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। ঠিকাদার তাদের মনগড়া  ভাবে এই ভবনের কাজ করে যাচ্ছে । কাজ করার সময় ইঞ্জিনিয়ারকে একবারও দেখা যায়নি।
দুর্যোগ ও করোনা কালীন সময়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দ্রুত গতিতে কাজটি করায় এলাকাবাসী বাধা দেয়।
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের চাঁদপুরের প্রকৌশলী ফাহিম ইকবাল
জানায়, দুর্যোগ ও করোণা কালীন সময়ে কাজ করার কোন বিধান নেই, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমাদেরকে না জানিয়ে বিদ্যালয়ের ঢালাইয়ের কাজ করেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এদিকে অভিযুক্ত ঠিকাদার শাহাদাৎ জানায়,স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে ইঞ্জিনিয়ার কে অবহিত করা হয়নি। এটাই আমাদের ভুল ছিল। পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারের সাথে যোগাযোগ করে কাজ শুরু করব। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। যদি হয়ে থাকে তাহলে ডিপার্টমেন্ট ব্যবস্থা নিবে।

শাহরিয়ার খান কৌশিক, মোঃ,০১৭১৩৬৮৮৯২০