আজ  সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০

চাঁদপুর লক্ষ্মীচরে স্বামীর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ

        চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪ নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড লক্ষ্মীর চরে স্বামীর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গৃহবধূকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পর গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে দেয়নি ও থানায় অভিযোগ করতে যেতে চাইলে ধর্ষণকারীরা তাকে চাঁদপুর শহরে আসতে বাধা প্রদান করে এবং জানে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
এই ধর্ষণের ঘটনাটি এলাকার কিছু দালালচক্ররা লম্পট ধর্ষণকারীদের পক্ষ নিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
গত শনিবার গভীর রাতে লক্ষ্মীর চরে কৃষক আব্বাস বকাউলের ঘরের দরজা ভেঙে ৭/৮ জন দুর্বৃত্ত ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে এই গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটায়।
এসময় তারা স্বামী আব্বাস বকাউল এর গলায় দেশীয় অস্ত্র রাম দা ঠেকিয়ে পাশের রুমে তার স্ত্রীকে নিয়ে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে।
এই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ধর্ষিতা গৃহবধূর স্বামী আব্বাস বকাউল জানায়, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আহসানুল্লাহ মিজির ছেলে আসমত আলী মিজি, ভুদাই গাজীর ছেলে বাবুল গাজী, শরফত আলী গাজীর ছেলে ফয়সাল গাজী, রুলামিন মিজি সহ ৭/৮জন মুখোশ পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে। এ সময় তারা গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্ত্রীকে পাশের ঘরে জোরপূর্বক নিয়ে একের পর এক ধর্ষণ করে। এ সময় তিনজনের মুখোশ খোলা থাকায় তাদেরকে খুব সহজে চেনা যায়।
ঘটনাটি রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ওসমান গাজী সহ কয়েকজনকে জানালে তারা ধর্ষণকারী কয়েকজনকে এনে সালিশি বৈঠক করেন। পরে সবার উপস্থিতিতে তাদেরকে জুতা পিটা করে ছেড়ে দেয়।
এই ঘটনার পর অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা বাধা দেয় এবং ঘটনাটি অন্য কাউকে জানালে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় পুরো পরিবার নিয়ে ঢুকছি যেকোনো সময় আবারও এই ধর্ষণকারীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এই ধর্ষনের ঘটনায় ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এই ঘটনায় ধর্ষিতা গৃহবধূ জানায়, রাতের আধারে তারা ঘরে ঢুকে অস্ত্রের গলায় ঠেকিয়ে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে পাশের রুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তাদের হাতে পায়ে ধরে মাফ চাইলেও রেহাই না দিয়ে তারা নির্মমভাবে একের পর এক সবাই এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনায় লোকলজ্জার ভয়ে নিজে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ছেলে সন্তান থাকায় নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। এখন শুধু প্রশাসনের  কাছে একটাই দাবি যাতে করে এই ধর্ষণকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়।
গণধর্ষণে সালিশি বৈঠকে অংশ নেওয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গাজী কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণধর্ষণের ঘটনাটি আমাকে জানায়নি আমি সালিশি বৈঠকে করিনি। যদি জানাতেন তাহলে সমাধান করে দিতাম। তবে এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি।

শাহরিয়ার খান কৌশিক, মো,০১৭১৩৬৮৮৯২০