আজ  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চাঁদপুর হরিণা ফেরিঘাটে স্কেলে দুর্নীতি অভিযোগ, একজন স্ট্যান্ড রিলিজ

 

চাঁদপুর হরিণা ফেরিঘাটে স্কেলে দুর্নীতি দিন দিন বেড়েই চলছে। একই গাড়ি দুইবার স্কেল স্লিপ করিয়ে টাকার বিনিময় পরের গাড়ি আগে ফেরি দিয়ে পারাপার করার অভিযোগ উঠেছে।
হরিনা ফেরিঘাটে স্কেলে দুর্নীতি বন্ধে ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চালকরা বিক্ষোভ করেন।
স্কেলের দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অফিস সহায়ক বরিশালের এইচ এম নজরুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছেন কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হরিনা ফেরিঘাট ম্যানেজার ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী।
টার্মিনালে থাকা বেশ কয়েকজন গাড়ী চালক জানায়, প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক মালবাহী গাড়ি চট্টগ্রাম থেকে হরিনা ফেরিঘাট দিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আসে।
একটি গাড়ি নদী পারাপার হওয়ার জন্য প্রায় তিন-চারদিন টার্মিনালে অবস্থান করেন।
এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হরিনা গাড়ি ও মাল ওজন দেওয়ার স্কেলে অফিস সহকারীরা চালকদের সাথে টাকার বিনিময় সমন্বয় করে ৩/৪ দিন পূর্বে সিরিয়াল দিয়ে একই নাম্বারে ভুয়া স্লিপ তৈরি করে।
তাদের কন্টাক্ট মত গাড়িগুলো আসার পরে লোক দেখানো স্কেল করে আরেকটি স্লিপ দিয়ে দেওয়া হয়।
রাত হওয়ার সাথে সাথে সুযোগ বুঝে পরের গাড়িগুলো দ্রুত ফেরিতে উঠিয়ে পার পার হয়ে যায়।
এই ধরনের একটি দুর্নীতি হাতেনাতে ধরে ফেলেন টার্মিনালে অপেক্ষমান বেশ কয়েকজন চালক।
গত একুশে ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা২০ মিনিটে ঢাকা মেট্রো ১১-১৯৩৩ মালবাহী ট্রাক ওজন দেওয়ার জন্য স্কেলে আসে। এ সময় স্কেলে থাকা অফিস সহকারী এইচ এম নজরুল ইসলাম ওই গাড়িটি ওজন দেওয়ার পরে সাথে সাথে দুইটি স্লিপ বের করে নেয়। এর মধ্যে পূর্বে মোবাইল ফোনে কন্টাক হওয়া খুলনা মেট্রো ট১১-১৯৯৪ মালবাহী গাড়ি সিরিয়াল দিয়ে রাখেন।
দুদিন পরেই গাড়িটি হরিনা ফেরিঘাট আসার পর লোক দেখানো ওজন স্কেল ওরে স্লিপ নিয়ে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে চালক পূর্বের ভুয়া স্লিপটি নিয়ে নেয়। রাত দশটা হওয়ার পর সেই পরে আশা মেট্রো ট১১-১৯৯৪ মালবাহী ট্রাকটি সিরিয়াল ব্রেক করে ফেরিতে উঠানোর সময় টার্মিনালে অপেক্ষমান চালকরা তাকে হাতেনাতে ধরে আটকে রাখে।
এ নিয়ে রাতভর চালাকদের সাথে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্কেলে থাকা অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম ও তারেক হোসেন আহমদ চেষ্টা চালায়।
পরদিন ভোরে সমঝোতা শেষে স্কেল স্লিপ ছাড়াই খুলনা মেট্রো ট১১-১৯৯৪ মালবাহী গাড়িটি ফেরিতে উঠিয়ে নদী পারাপার করে দেয়।
এই বিষয়ে গাড়িচালক সাব্বির জানায়, চট্টগ্রাম থেকে আসার পূর্বে সিরিয়াল আগে দেওয়ার জন্য স্কেলে থাকা অফিস সহকারী নজরুল ইসলামের সাথে মোবাইলে কথা হয়। তাকে ২০০০ টাকা দেওয়া হলে সে স্কেল সিটি দেওয়ার পর ফেরিতে উঠানোর সময় চালকরা দেখে বাধা দেয়। এ নিয়ে রাতভর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয়দের সাথে দরকষাকষি হওয়ার পর ভোরে তারা গাড়িটি পারাপার করে দেয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম জানান, এই বিষয়টি বাড়াবাড়ি না করে সমাধান করা ভালো। যা ঘটেছে পরে আর ঘটবে না তবে চালকদের কারণেই এসব হয়েছে। এর সাথে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে।

এই ঘটনায় সেদিন ম্যানেজার ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী জানান, স্কেলে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার পরে অভিযুক্ত অফিস সহকারি এইচ এম নজরুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। এই ধরনের দুর্নীতি বা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিি