আজ  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চাঁদপুর হরিনা চালিতাতলী স্কুলের অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

যোো

চাঁদপুর জেলার মধ্যে সদর উপজেলার ১৩ নং হানারচর ইউনিয়নে সবচেয়ে হতদরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের জীবন যাপন। এই ইউনিয়নে অধিকাংশ মানুষই জেলে ও কৃষি কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে।
চাঁদপুরের সবগুলি ইউনিয়নের মধ্যে এই ইউনিয়নে শিক্ষার হারও তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
এই কারণে হতদরিদ্র মানুষ অর্থের অভাবে তাদের ছেলে সন্তানদের ভালোভাবে সুশিক্ষিত করতে পারছে না।
হানারচর ইউনিয়নের একটিমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে সেটি হচ্ছে হরিনা চালিতাতলী এডওয়ার্ড ইনষ্টিটিউশন উচ্চ বিদ্যালয়।
এই স্কুলে বর্তমানে প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছে। যাদের অধিকাংশ পরিবার মৎস্যজীবি ও কৃষিজীবী।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনির আহম্মেদ ছিদ্দিকী এসকল হতদরিদ্র পরিবারের কথা চিন্তা না ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন ফি বাবদ ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্কুলের অভিভাবক শাহজাহান বেপারী, মিজান বেপারী, নাছির ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, টাকা পয়সার অভাবে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাতে অনেক ব্যাঘাত হচ্ছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনির আহমেদ সিদ্দিকী কারো কাছ থেকে ৮০০ টাকা আবার কারো কাছ থেকে ৯০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে পড়ালেখা করতে পারেনা। প্রধান শিক্ষকের চাহিদা মতো টাকা না দেওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীদের স্কুলে অপমান করে বের করে দিয়েছে।
এর আগের বছর প্রধান শিক্ষক অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কারণে প্রতিবাদ করায় তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছে।
দশম শ্রেণীর ছাত্র নয়ন হোসেন জানায়, বাবা এলাকায় চায়ের দোকানের আয় দিয়ে আমাদের পড়াশোনার খরচ চালায়। বাবা না থাকলে চায়ের দোকানে পরিচালনা করি এর ফাঁকে স্কুলে পড়াশোনা করি। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে দশম শ্রেণীর সেশন ফি বাবদ ৮২০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সকল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১০ টাকা, মিলাদ ১০০ টাকা ও বার্ষিক ক্রিয়ার সময় টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই শিক্ষকরা দুর্ব্যবহার করে।
স্কুলের শিক্ষার্থী নবম শ্রেণীর ছাত্রী সালমা জানায়, স্কুলে সেশন ফি বাবদ ৮০০ টাকা নিয়েছে। প্রধান শিক্ষকের মন মত একজন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একেক রকম টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
শনিবার দুপুরে স্কুল চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষে না পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনির আহমেদ সিদ্দিকীর মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, কে বলেছে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছি তাদের নাম বলেন তাদেরকে দেখে নিব। ধান্দাবাজি বাদ দিয়ে ভালো হয়ে যান।আপনি জানেন এই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কে তার কথা মতই স্কুলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। পারলে কিছু কইরেন।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে বর্তমানে চালিতাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির আহমেদ সিদ্দিকী চার বছর পূর্বে হাইমচর উপজেলা বাজাপতি রমনি মহন উচ্চ বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
সেসময় দুর্নীতি ও অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে সেখান থেকে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা তাকে সরিয়ে দেন।
তারপরেই চালিতাতলী এডওয়ার্ড ইনষ্টিটিউশন উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে যোগ দেয়। এই স্কুলে এসেই দুর্নীতি শুরু করছে।এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছে স্কুলের ভুক্তভোগী অভিভাবকরা।