আজ  বৃহঃবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০

চাঁদপুর হাইমচরে প্রবাসী আক্তার হত্যার এক বছরেও সিবিআই তদন্ত রিপোর্ট দিতে বিড়ম্বনা, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সদর সার্কেল

চাঁদপুর হাইমচর উপজেলার ৩ নং আলগী দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের প্রবাসী আক্তার আখন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এক বছরেও বেরিয়ে গেলেও পিবিআই তদন্ত রিপোর্ট এখনো আদালতে দাখিল করেনি।
হত্যা মামলার ঘটনা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা করছেন।
আলগী দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পূর্ব চর কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী আক্তার আঁখনকে পারিবারিক কলহের জের ধরে হত্যার পর বাড়ির পাশে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
সেই ঘটনায় হাইমচর থানায় প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা হলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আত্মহত্যা নয় হত্যা করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করার পর নিহতের স্ত্রী মাজেদা বেগম ডলি বাদী হয়ে শাহপরান, আমির উদ্দিন ও আনোয়ার সহ ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সিআর-৩৮/২০১৯
মামলা হওয়ার পর প্রতিপক্ষরা মামলার বাদীকে আরেকটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করে ও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ অফ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) এসআই সাইদুরকে তদন্ত ভার দেওয়া হয়।
কিন্তু মামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও পিবিআইর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি ও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠায়নি ।
মামলার বাদীকে হয়রানি, হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং প্রবাসীর বাড়িতে তাকে মারধর করে লাঞ্চিত করায় অবশেষে পুলিশ সুপারের শরণাপন্ন হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
চাঁদপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত আক্তার আখনের বাড়িতে পরিদর্শনে যান।
এ সময় প্রবাসীর স্ত্রী মাজেদা বেগম ডলির যাবতীয় মালামাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এর উপস্থিতিতে নিহত বাড়ি থেকে দিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল জাহেদ পারভেজ চৌধুরী জানান, হত্যা মামলার ঘটনাটি এখনো যেহেতু পুলিশ তদন্ত করছেন তাই বাদী পক্ষকে কোন অবস্থাতেই যাতে কেউ হয়রানী ভয়ভীতি প্রদর্শন না করে।
আইন-শৃঙ্খলা যাতে স্বাভাবিক থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন যদি কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে আমাদের জানালে আইনগত ব্যবস্থা নিব।
মামলার বাদী প্রবাসীর স্ত্রী মাজেদা বেগম ডলি জানান, স্বামী ১৮ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। সেখান থেকে তার উপার্জিত আয় বাবা ও ভাইয়ের কাছে পাঠাতেন। স্বামী মারা যাওয়ার নয় মাস পূর্বে দেশে এসে তার পাঠানো টাকা হিসাব চেয়ে বাবা ও ভাইয়ের সাথে বেশ কয়েকবার ঝগড়া বিবাদ হয়।
২৫ রোজায় বাবার বাড়িতে চলে আসার পর ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে স্বামীর সাথে তার পরিবারের লোকজনের ঝগড়া-বিবাদ মারামারির ঘটনা ঘটে।
এসময় তারা স্বামীকে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।
পরদিন সকালে শাশুড়ি ফোন করে জানালে বাড়িতে গিয়ে স্বামীর লাশ গাছের সাথে ঝুলতে দেখি ও তার পুরুষাঙ্গ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে।
হত্যার ঘটনাটি আত্মহত্যা চালিয়ে দিয়ে থানার পুলিশকে ম্যানেজ করলে পুলিশ প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।
করে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হত্যা করার আলামত পাওয়ায় আদালতে ৭জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই এসআই সাইদুল তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করেনি।মামলার বিষয়ে এই তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় যার প্রমাণ ও কল রেকর্ড রক্ষিত রয়েছে।
পুলিশ মামলাটি নিয়ে তালবাহানা শুরু করেছে মামলার আসামিরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা চাই সঠিকভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তি প্রদান করা হয়।
স্বামীর সম্পদ ও রেখে যাওয়া টাকা-পয়সা আসামিরা আত্মসাৎ করেছে।
আমি এখন দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইদুর জানায়, মামলাটি এখনো তদন্ত বাকি রয়েছে। মোবাইলের কল রেকর্ডের বিষয়ে তথ্য প্রমাণ চেয়ে ঢাকায় সিআইভির  কাছে চাওয়া হয়েছে।
তারা পর্যালোচনা করে পাঠানোর পর পরবর্তীতে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পিবিআই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শংকর কুমার দাস জানান, এই ঘটনাটি একটি জটিল কারণ হাইমচর থানায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর ওই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অভিযুক্তরা বাদীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেছে।
তবে এ ঘটনার পর সেখানে গিয়েছি ও তদন্ত শেষ হওয়ার সাথে সাথে খুব দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে।

শাহরিয়ার খান কৌশিক, ০১৭১৩৬৮৮৯২০