আজ  বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

ডায়াবেটিস ও স্মৃতিশক্তি সমস্যা

1489160165সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায় ডায়াবেটিসের জটিলতা মগজ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, বৃদ্ধিবৃধির অধোগতি ঘটে-এর স্বপক্ষে বেশ তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা গেছে।

 

তথ্য সংগ্রহ করা গেছে ১০ বছর পরীক্ষা করে বয়স্ক স্ত্রী-পুরুষ যাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস। যে ধরণের ডায়াবেটিস স্থূলতা ও দৈহিক নিষ্কিয়তার সঙ্গে যুক্ত-এদের বুদ্ধিবৃত্তি বেশ কমেছে অন্তত: সমবয়সী অন্যদের তুলনায়। ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা যত দুর্বল, মানসিক অধোগতি হয়েছে তত বেশি। আর ডায়াবেটিস অনেক অগ্রসর  এমন ক্ষেত্রেই যে কেবল এরকম অধোগতি তাই নয়। গবেষকরা দেখেছেন, গবেষণার শুরুতে যাদের ডায়াবেটিস ছিলো না, এদেরও যখন পরে কালক্রমে ডায়াবেটিস হলো, এদেরও মানসিক অধোগতি, যাদের ডায়াবেটিস নেই এদের চেয়ে

 

অনেক বেশি হলো।

 

ডায়াবেটিসের সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তির ক্ষয় বেশ জোরালো, বলেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা: ক্রিস্টিনি জ্যাকে। কার্যকারণ সম্পর্কটি আরো পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার বিষয় হলেও ‘ডায়াবেটিস ও মগজের স্বাস্থ্য’ বিষয়টি দৃঢ় প্রতিপন্ন হলো সাধারণ জনগোষ্ঠির উপর এর প্রভাব বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আমেরিকাতে ৬৫ উর্দ্ধ একতৃতীয়াংশ মানুষের রয়েছে ডায়াবেটিস, মানে ১১ মিলিয়ন লোকের রয়েছে ডায়াবেটিস। ২০৩৪ সালের মধ্যে তা হয়ে দাঁড়াবে ১৫ মিলিয়ন। আগের গবেষণা থেকে দেখা গেছে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে শেষ বয়সে আলঝাইমার রোগ ও চিত্তভ্রংশ রোগ হবার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি খুব বেশি। তবে কার্যকারণ সম্পর্ক স্পষ্ট জানা নেই। অনেকের ধারণা, অনেক বছর ধরে ক্রনিক রক্ত সুগার মান বেড়ে থাকলে যে রক্তনালীর ক্ষতি ও প্রদাহ ঘটে, এই ব্যাপারটি দায়ী। নতুন এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল আর্কাইভস অব নিউরোলজিতে। আমেরিকার পিটসবার্গ ও টেনিসিতে বসবাসরত ৩০৬৯ জন লোক, যারা অধিকাংশ ৭০ উর্দ্ধ এরকম শ্বেতকায় ও কৃষ্ণকায় লোকদের উপর দীর্ঘ সময় গবেষণা করলেন ডা: জ্যাকে। গবেষণা যখন শুরু হলো তখন ২৩% শতাংশ

 

লোকের ছিলো ডায়াবেটিস এবং ৫ শতাংশ লোক শুরুতে ডায়াবেটি মুক্ত ছিলেন পরে তাদের ডায়াবেটিস হয়। অধিকাংশরই ছিলো টাইপ-২ ডায়াবেটিস। গবেষণায় কালক্রমে এদেরকে বারবার বুদ্ধিবৃত্তি পরীক্ষার মুখোমুখি করা হলো স্মরণশক্তি, সমন্বয় শক্তি, মনোযোগের ক্ষমতা, হাতের কাজের দক্ষতা এমনকি সার্বিক মানসিক স্বাস্থ্যও পরখ করা হলো। গবেষণার শুরুতে যাদের ইতিমধ্যে ডায়াবেটিস ছিলো,

 

তাদের সঙ্গে যাদের ছিলোনা

 

তাদের মধ্যে সামান্য তফাত্

 

ছিলো। তবে নয় বছর পর

 

তাদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তির মানে বেশ ফারাক হলো। যাদের প্রথম ডায়াবেটিস ছিলোনা তবে পরে হলো এদেরও বুদ্ধিবৃত্তির অধোগতি হলো।

 

রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ দুর্বল

 

ছিলো কিনা তা  দেখার জন্য গ্লাইকোসাইলেটেড হেমোগ্লবিন (HBA1C) পরীক্ষাও করা হলো। প্রচলিত রক্তের সুগার পরীক্ষা

 

করে রোগীর তাত্ক্ষণিক

 

রক্তসুগার মান জানা যায় তবে (HbA1C) বা গ্লাইকোসাইলেটেড হেমোগ্লবিন করে আরও বিস্তৃত জানা যায়। রোগী বিগত ২-৩ মাসের রক্তের সুগারের গড় মান এতে জানা যায়। ডায়াবেটিস চিকিত্সার অগ্রগতি যাচাই

 

করার শ্রেষ্ঠ পরীক্ষা হলো-(HBA1C) এইচবিএওয়ানসি। নতুন এই পরীক্ষায় ফলাফলে

 

যতো উচুমান (HbA1C) পাওয়া গেলো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তত দুর্বল বোঝা যায়, বুদ্ধিবৃত্তিক অধোগতির এটি একটি ভালো ভবিষ্যত্সূচকও বটে।

 

এই ফলাফল থেকে একটি

 

সারকথা যা বেরিয়ে আসে তা হলো-মধ্য জীবনে বা এরও আগে ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা, বিশেষ

 

করে প্রতিরোধ করা গেলে বৃহত্ জনগোষ্টিতে বুদ্ধিবৃত্তিক অধোগতি বেশ ঠেকানো যাবে।

 

তবে ডা: জ্যাকে একটি

 

সতর্কবাণীও উচ্চারণ করেছেন। যেমন বয়স্ক ডায়াবেটিক

 

রোগীদের রক্তের সুগার বেশি

 

কড়া নিয়ন্ত্রণ করাও ঠিক নয়। রক্তসুগার স্বল্পতার প্রবণতাও বয়স্কদের বেশি হয়। সাধারণ

 

ধারনা হলো গ্লুকোজ নি য়ন্ত্রণ

 

যতো কঠোর, ডায়াবেটিস জটিলতা

 

ঠেকানো ততই ভালো। তবে

 

বয়স্ক ও বুড়ো লোকদের ক্ষেত্রে এ যেন পিচ্ছিল পাহাড়ের ঢাল। বুড়োদের রক্তসুগার স্বল্পতা প্রবণ বেশি; অন্যান্য ওষুধও তারা খান,

 

যা মিথষ্ক্রিয়া করে আর অন্যান্য

 

অসুখ ও থাকে তাদের। তাই খুব কঠোর নিয়ন্ত্রণ, রক্তের সুগার খুব নামানো, বুড়োদের ক্ষতি করতে

 

পারে বরং। তাই বেশি কড়াকড়ি

 

নয় তাদের জন্য।