আজ  সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১৮

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তিন স্থানে দুঃসহ যানজট

www
কুমিল্লা প্রতিনিধি: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের মেঘনা ব্রিজ, কুমিল্লার দাউদকান্দির টোলপ্লাজা এবং ফেনীর ফতেহপুর নির্মাণাধীন রেলওয়ে ওভারপাস এলাকাসহ তিনটি স্পট এখন যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহন ও পণ্যবাহী পরিবহনের জন্য এক চরম দুশ্চিন্তার বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ পথে রওনা করে অনেক সময় সড়কেই কেটে যায় দিন। ওই তিনটি স্পটে প্রায়ই তীব্র যানজটের কবলে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে ৫-৬ ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো সময় লেগে যায় ১২ থেকে ১৫ ঘন্টা। এ দীর্ঘ সময়ে যানজটে পড়ে একদিকে যেমন দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্সের রোগীকে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পোহাতে হয়, অন্যদিকে রপ্তানীমুখি পণ্যের পরিবহন খরচও দ্বিগুণ গুণতে হয়। অনেক সময় দুর্ভোগ সয়ে ঢাকা থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার পৌঁছার পর ফেনীর রেলক্রসিংয়ের তীব্র যানজট এড়াতে অধিকাংশ গাড়ির চালককে বিকল্প পথে যেতে হয়। এসব গাড়ি পদুয়ার বাজার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছেড়ে লাকসাম-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়ক হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফেনীর মহিপাল হয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে দেখা যায়। এতে লাকসাম-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কেও পথে পথে যানজটের সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয় যানবাহনের যাত্রীদের।

 

এদিকে গতকাল শনিবার ফেনী রেলক্রসিংয়ের উভয়দিকে কমপক্ষে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে মহাসড়কে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন শতশত যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা। দুপুরে এ যানজট চট্টগ্রাম অভিমুখের কুমিল্লা অংশের চৌদ্দগ্রামের ছুফুয়া এলাকা পর্যন্ত যানজট প্রায় ৪০ কিলোমিটার বিস্তৃতি লাভ করে। এদিকে আসন্ন রমজান মাস ও ঈদকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইনখ্যাত এ মহাসড়কের ওই তিনটি স্পটের যানজটকে ঘিরে মহাসড়কে এ ভোগান্তি আরও তীব্রতর হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। শনিবার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন ঘুরে বিভিন্ন পরিবহনের গাড়ির চালক ও যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এসব বিষয় জানা গেছে। গাড়ির চালক ও যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাতায়াতের পথে কাঁচপুর ব্রিজ অতিক্রম করে প্রথমেই দুর্ভোগে পড়তে হয় মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকায়। এরপরই মেঘনা টোলপ্লাজায় টোল গ্রহণে ধীরগতির কারণে মেঘনা সেতুর দুইদিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মুন্সীগঞ্জ জেলার ভবেরচরসহ মেঘনা ব্রিজের উভয়দিকে প্রায় সময় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ে। গাড়ির চালকরা জানান, মেঘনা ব্রিজের উচ্চতা বেশি হওয়ায় পণ্যবাহী ভারী যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে, এতে ওই ব্রিজ পাড়ি দিতে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। আবার কখনো ব্রিজের উপর যানবাহন বিকল হয়ে পড়লে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

দাউদকান্দির ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল:কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় ঢাকা অভিমুখি পণ্যবাহী ভারী যানবাহনের ওজন পরিমাপের সময় পণ্যবাহী পরিবহনের চালকদের সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রায়শ বাকবিতন্ডার কারণে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে এখানে প্রায় প্রতিদিন ৫-৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট লেগেই থাকে। যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেন হওয়ার কারণে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের অন্য কোথাও তেমন যানজট সৃষ্টি না হলেও ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেলে পণ্যবাহী যানবাহন থেকে সংশ্লিষ্টদের অর্থ আদায় নিয়ে দর কষাকষি করতে গিয়ে ঢাকামুখী অংশে প্রতিদিনই কম-বেশী যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া সরকারি ছুটির দিনে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও বেপরোয়া গতিতে এলোমেলো গাড়ি চলাচলের কারণে তারা ফোর লেনের তেমন সুফল পাচ্ছেন না। যানজটের আটকা পড়ে যাত্রী ছাড়াও রপ্তানীমুখি ও বিভিন্ন মালামালবাহী কাভার্ডভ্যান-ট্রাক, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এছাড়াও অনেক সময় হাইওয়ে ও থানা পুলিশের চেকিং বাণিজ্যের কারণে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়ে হয়ে থাকে।

 

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড: চট্টগ্রাম অভিমুখে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ওভারপাসের পর আবারও ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ওভারপাস এলাকায় পৌঁছার পর যানজটের দুর্ভোগ এড়াতে চট্টগ্রাম অভিমুখি যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনকে লাকসাম-নোয়াখালী বিকল্প সড়কে ফেনীর মহিপাল হয়ে চট্টগ্রাম যেতে দেখা যায়। যাত্রীসাধারণ ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজন জানান, পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ওভারপাসের পূর্ব পার্শ্বে পদুয়ার বাজার চারমুখি সড়কের মিলনস্থল। এ স্থান হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চাঁদপুর সড়কে যাতায়াত করতে হয়। এসব সড়কে প্রতিনিয়ত দিনে-রাতে যাত্রীবাহী, পণ্যবাহীসহ ছোট-বড় হাজারো যানবাহন চলাচল করে থাকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ছাড়াও কুমিল্লা-ঢাকা, কুমিল্লা-চাঁদপুর, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসহ জেলার আঞ্চলিক সড়কে অসংখ্য যানবাহন যাতায়াত করে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় গন্তব্যের যানবাহনগুলোর মহাসড়ক লাগোয়া টিকেট কাউন্টার এবং কোনো কোনো যানবাহন দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানামা করানোর কারণে মহাসড়কের পদুয়ার বাজারের চারমুখি মিলনস্থলটি যানবাহনের চাপে এক অসহনীয় দুর্ভোগের সৃষ্টি করছে।

 

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের ফেনী শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে ফোরলেনের প্রবেশমুখ পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সংস্কার কাজ চলছে। এ কারণে এ পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এটিও যানজট সৃষ্টির একটি কারণ। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষে সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর ফোরলেন বিশিষ্ট রেলওয়ে ওভারপাসের কাজটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্রুতগতিতে চলছে। রমজানের আগেই রেলওয়ে ওভারপাসের একটি লেন খুলে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন এ দুর্ভোগ আর থাকবে না।