আজ  মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

তিলে তিলে গড়ে ওঠা এক উজ্জ্বল নক্ষত্র কিম্মত আলী

Picture-2017-07-12 10.26.08

ইসমাইল খান টিটু, তাবুক (সৌদি আরব) :
কিম্মত আলী। তিলে তিলে গড়ে ওঠা এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। যিনি দরিদ্রকে জয় করে নিজের যোগ্যতায় প্রবাসে কৃষি কাজ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। সৌদি আরবের তাবুকে শাক-সবজির চাষ করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। বর্তমানে প্রতি মাসে তার আয় হয় লক্ষ লক্ষ টাকা।

Picture-2017-07-12 10.26.17
তিনি হবিগঞ্জ জেলার হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চর হামুয়া গ্রামের মৃত মনছুর আলী ও লাল বানুর পুত্র। ২ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে কিম্মত আলী একজন। কিম্মত আলী সংসার জীবনে ৪ সন্তানের জনক ২ ছেলে ২ মেয়ে। তিনি স্বপরিবারে তাবুকে বসবাস করেন। বড় ভাই আজ্জু মিয়া নিজেদের একজন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক।

Picture-2017-07-10 19.47.17
কিম্মত আলী ১৯৯৯ সালে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। ৩ বছর তিনি সৌদি আরবের কফিলের অধীনে মিশনের এক নাগরিকের আন্ডারে কাজ করতেন ১০ হাজার টাকা বেতনে। সেই সময় বেতনে কাজ করে পুসিয়ে পারছিলেন তিনি। বিকল্প দিক চিন্তা করে কফিলের মাজরা ভাড়া নিয়ে ৫ জন বাংলা শ্রমিক নিয়ে কৃষি কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রায় ১শ’ একর জমিতে কৃষি কাজ করেন। তার খামারে ১৫০-১৭০ জন বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করেন।

Picture-2017-07-12 10.26.12
শ্রমিকদের নিয়ে বেশ দক্ষতার সাথে ২০০২ সাল থেকে এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন তিনি। শ্রকিদের সাথে কথা হলে তারা খুশি মনে বলেন, কিম্মত ভাই নিজের ভাইয়ের মতো আমাদের পরিচালনা করেন। আমরা কিম্মত ভাইয়ের কাজ করতে পেরে খুব খুশি। তিনি আমাদের সবসময় সুখে দুখে আগলে রাখেন।
সরেজমিন কিম্মত আলীর খামারে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বেগুন, কাঁচা মরিচ, ফুল কফি, বাধা কপি, টমেটো, ঢেঁরশ, বেগুন, লাউ, শষা, কুচা, শ্যাম্মাম, জালি কুমড়া, করলা ইত্যাতি চাষাবাদ করছেন তিনি। খামার থেকে নিজস্ব ৪ টি লড়ি দিয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল ও কাতার’সহ বিভিন্ন দেশে বাজারজাত করেন এ সবজি।

Picture-2017-07-12 10.26.22
কিম্মত আলী বলেন, আমার এ সাফল্যের জন্য তার সহধর্মিনিরও ব্যাপক অবদান রয়েছে। সংসারের সকল দায়-দায়িত্ব সে পালন করছে। আমি সংসার জীবনে অনেক সুখী। তিনি আরো বলেন, আমি একজন বাঙ্গালী হয়ে সৌদি আরবে এ ব্যবসা পরিচালনা করতে পেরে নিজেকে খুবই সুখি মনে হয়। আল্লাহ আমাকে অনেক ভাল রেখেছেন। সকলের দোয়ায় আমার প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হয়।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিম্মত আলী লস্করপুর ইউনিয়নের গরীব ও দরিদ্র মানুষের মাঝে সহযোগী করে থাকেন। নিজ গ্রাম ও ইউনিয়নের বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে থাকেন। দেশে এলে তিনি মানুষের বিপদের কথা শুনলে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেন। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।