আজ  বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯

নৃশংস ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত আতিক হত্যার বিচার চায় পরিবার

21-8-2019-oc

জাকির হোসেন বাদশা: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামীলীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচআনি গ্রামের আতিক উল্লা সরকার। অনেক দুঃখ দুর্দশা ও অভাব অনটন কাটিয়ে আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে তার স্ত্রী-সন্তানেরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া অনুদানেই টিকে আছে আতিকের রেখে যাওয়া পরিবারটি। তাদের এখন একমঙ্গলবার দুপুরে কথা হয় আতিকের স্ত্রী লাইলি বেগমের সাথে। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, ১৫ টি বছর পার হলো তাকে (আতিক) ছাড়া। মারা যাওয়ার পর থেকে অনেক কস্টে দিনাতিপাত করছিলাম। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের আর্থিক অনুদান দেন। এরপর থেকে শুধু তিনিই অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন। এ পর্যন্ত শেখ হাসিনার আমাদের ৩৫ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি আরো জানান, অভাব অনটন কাটিয়ে আমার ১ মেয়ে ও ৩ ছেলেকে বড় করে তুলছি। এখন আমার বড় ছেলের একটি চাকুরী দরকার। প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার একটাই চাওয়া, আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে তার একটি সুষ্ঠু বিচার।
আতিকের রেখে যাওয়া চার সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে তানিয়া আক্তার এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করার পর গত ২ বছর আগে বিয়ে হয়েছে। দ্বিতীয় ছেলে মিথন সরকার নারায়ণগঞ্জ কলেজে একাদশ শ্রেণীতে প্রথম বর্ষের ছাত্র। লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি কোম্পানীতে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছেন। তৃতীয় ছেলে মিন্টু সরকার লেখাপড়া করছে না, আর চতুর্থ ছেলে সাকিব সরকার দশম শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে। তাই দাবী, আতিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার। নিহত আতিকের ছেলে মিথন সরকার জানান, আমার বাবা আওয়ামীলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। ঢাকায় একটি কলকারখানায় ডিউটি শেষে জনসভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তার এ মৃত্যু কেন্দ্র করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়েছেন। সবসময় খোঁজ খবর নিচ্ছেন, তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এখন আমরা আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।
আতিকের প্রতিবেশী মোহনপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন জয় বলেন, আতিক আমার সম্পর্কে চাচা হয়। তাকে যখনই দলীয় কাজে ডাক দিতাম সাথে সাথে চলে আসতো। সে একজন একটিভ কর্মী ছিল। আমি দোয়া করি সে জান্নাত বাসী হউক। আমরা সবসময়ই তার পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছি।
মতলব উত্তর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, আজকে আমি খবর পেয়ে আতিকের পরিবারের খোঁজ খবর নিতে গিয়েছিলাম। আমি চেষ্টা করবো যতটুকু পারি যেভাবে পারি তার পরিবারকে সহায়তা করবো।