আজ  বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

পদ্মায় স্প্যান ঘিরে উদ্বেল আনন্দ, এ গর্ব বাংলাদেশের!

1

আইএনএন২৪বিডি.কম: সকাল থেকেই রোদের ঝিলিক। পাশে জেগে ওঠা চরে সাদা কাশবনের দোলা। ওই দূরে দেখা যাচ্ছে পদ্মাসেতুর পিলার। তার ওপর ধীরে ধীরে বসিয়ে দেয়া হচ্ছে স্প্যান। আকাশে মেঘ নেই! নেই ঘনকালো অন্ধকারও। আনন্দে উদ্বেল মন্ত্রী তাই আগেভাগেই এসে হাজির।

অত্যাধুনিক স্পিডবোটের ভেতরের আসন ছেড়ে বেরিয়ে এলেন তিনি উচ্ছল চেহারায়। আসন নিলেন বোটের সামনে। লাইফ জ্যাকেট ছেড়েই বেরিয়ে পড়া মন্ত্রী উঠে দাঁড়িয়ে হাত নাড়লেন উচ্ছ্বাসে-উল্লাসে। তখনই ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে বসে গেল পদ্মাসেতুর প্রথম স্প্যান । এ গর্ব বাংলাদেশের!

বিশ্বে আমাজন নদীর পরই অন্যতম দীর্ঘতম ও খরস্রোতা এই নদীর গভীরতা ও স্রোতের প্রখরতা জয় করে সেতু নির্মাণের পথে জোর কদমে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ৪১টি স্পানের প্রথম স্প্যান বসিয়ে দিয়ে এই সফলতার দিকে এগোচ্ছে দেশ।

অনুভূতি জানাতে গিয়ে উদ্বেলিত সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বললেন, ‘বঙ্গোপসাগ‌রের ঊ‌র্মিমালার ম‌তো উ‌দ্বেল আমাদের হৃদয়। পদ্মার আকাশের সব মেঘ কে‌টে গে‌ছে। অথচ গতকালও আকাশ ছি‌ল মে‌ঘে ঢাকা। আজ মেঘ নেই।’

এই উদ্বেলতার সাক্ষী পদ্মার সকালের সোনারোদ। নদীর অযুত স্রোতধারা। নদীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা বার্জ। নির্মাণ‍াধীন আরো কয়েকটি পিলার। পাশে ফেরিতে করে যাওয়া মানুষের অবাক করা চাহনি।

মন্ত্রী কাদের বলেন, ‘পদ্মাসেতুর দীর্ঘ পথ পরিক্রমার এটি একটি মাইল ফলক। যিনি এর কুশীলব,যিনি এর রূপকার, তিনি এখানে অনুপস্থিত।’

এ শুভক্ষণে প্রধামন্ত্রীর অনুপস্থিতির কারণ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বললেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তোমরা পারবে।’

ওয়াশিংটন থেকে শেখ হাসিনা আরও জানিয়েছেন, ‘এক মিনিটের জন্য পদ্মাসেতুর কাজ বন্ধ করা যাবে না।’

ওবায়দুল ‍কাদের বলেন, ‘পদ্মাসেতুর আকাশে যখন অনিশ্চিয়তার কালো মেঘ, দুই পাড়ে যখন ঘনকুয়াশা, বিশ্বব্যাংক পদ্মা প্রকল্প যখন ছেড়ে চলে যায়, সেদিন একটা অনিশ্চিয়তার অন্ধকার ছিলো। হতাশার মেঘ ঢেকে ছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন এই কুয়াশা আর কাট‍ানো যাবে না। অনেকেই ভেবেছিলেন পদ্মাসেতু আর হবে না। কিন্তু সেদিন বঙ্গবন্ধুর বীর কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা অসম সাহসে সময়ের মশাল হাতে