আজ  মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

বাংলাদেশের সফলতা দেখে বিশ্বজুড়ে আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাফল্য দেখে বিশ্বজুড়ে আরও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে একত্রিত হতে পারে রাশিয়া-ভারত। এতে তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কী তাদের এ বিষয়ে আর এগোতে দেবে?

এর সাধারণ উত্তর না হলেও রাশিয়া ভারত এক হয়ে আরও কাজ করবে এটা নিশ্চিত। কেননা, এর আগেও বহু মার্কিন বাধা ডিঙিয়েছে প্রতিবেশী ভারত। সম্প্রতিও রুশ ‘এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা’ কেনায় মার্কিন বাধা অতিক্রম করছে দেশটি। এছাড়া ইন্দো-রাশিয়া যৌথভাবে এর আগেও পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করেছে।

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি বলছে, রাশিয়ায় নিয়োজিত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ভেঙ্কাতেশ ভার্মা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করতে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারে ভারত।

ভেঙ্কাতেশ এও বলেন, রাশিয়া এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশের সঙ্গে এমন চুক্তি করেছে। ইথিওপিয়া এরমধ্যে একটি। এছাড়া কয়েকটি দেশ রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের। যা করা হয়েছে বাংলাদেশেরটির সফলতা দেখে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পারমাণবিক জ্বালানি বাজারের শীর্ষস্থানীয় এবং সুদক্ষ ব্যবসায়ী রাশিয়া ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ৩৩ টিরও বেশি দেশের টার্নকি প্রজেক্টের প্রস্তাব পেয়েছে। যাতে ভারতের নিজস্ব পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি মূল অংশীদার হয়েছে।
মূলত দক্ষিণ ভারতের কুদানকুলামে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত হয়েছিল। এরপর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সহযোগিতায় শুরু হয় বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ। এই প্রকল্পটি ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট (এএসই) জেনারেল কন্ট্রাক্টর হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। প্রকল্পটির আওতায় ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হবে। রুশ ডিজাইনের ৩+ প্রজন্মের এই রিয়্যাক্টর সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আর্ন্তর্জাতিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এর পেছনে বার্ষিক খরচ হবে মাত্র এক হাজার কোটি টাকা। বলা হচ্ছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ বিশ্ব পরিমণ্ডলে দশ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।