আজ  বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০

বিজয়ের ৪৮ মাসে পেরিয়ে গেলেও চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধা মুনাফ কবিরাজের পরিবার সকল ভাতা থেকে বঞ্চিত

 

 

১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন ও দুই লক্ষ ৭০ হাজার মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের অনেকের পরিবার এখনও সরকারি সকল ভাতা থেকে বঞ্চিত।
বিজয়ের ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নং লক্ষিপুর মডেল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা সরকারি মুক্তিযোদ্ধা মুনাফ কবিরাজের পরিবার এখনও সরকারি সকল ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
১৯৭১ সালে সহকারী মুক্তিযোদ্ধা মুনাফ কবিরাজ চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার লোহারপুল এলাকার নাপিত বাড়ি খালে মুক্তিযুদ্ধাদের নিয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার করার সময় পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হন।
সে সময় পাকহানাদারের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লিখিত স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে ২০০০ টাকার চেক তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মুনাফ কবিরাজের স্ত্রী আমেনা খাতুন ও তার শ্বশুর মৃত কালু কবিরাজ সে সময় শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ২ হাজার টাকার অনুদানের চেকটি গ্রহণ করেন।
মৃত্যু কালীন সময়ে মুনাফ কবিরাজ তাঁর দুই ছেলে সিদ্দিক কবিরাজ ও মিন্টু কবিরাজ এবং মেয়ে তৌফিক বেগমকে খুব ছোট অবস্থায় রেখে মারা যায়।
সহকারি মুক্তিযুদ্ধা মুনাফ কবিরাজের ছেলেমেয়েরা অশিক্ষিত হওয়ায় তার বাবার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিতে পারেনি।
যুদ্ধের সময় মৃত্যুবরণ করার পর যতটুকু অনুদান পেয়েছে তারপরে আর কোন সরকারি অনুদান পায়নি।
এ বিষয়ে সরকারি মুক্তিযোদ্ধা মুনাফ কবিরাজের স্ত্রী আমিনা খাতুন জানায়, স্বামী মুনাফ কবিরাজ যুদ্ধকালীন সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছে। নৌকা দিয়ে পারাপার করার সময় পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে।
সেসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ হাজার টাকার চেক অনুদান হিসেবে দেয়।
তারপর থেকে সরকারি সকল সহযোগিতা ও অনুদান থেকে বঞ্চিত। একটাই দাবি সরকারি মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মুনাফ কবিরাজকে যেন স্বীকৃতি দেওয়া হয় ।
স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করেছি। অভাবের সংসার এখন টানাটানি করে চলছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে আবার ছেলে, সন্তান নিয়ে ভালোভাবে থাকতে পারবো।
মুনাফ কবিরাজের ছেলে সিদ্দিক কবিরাজ জানায়, বাবা ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন সময়ে হানাদারের গুলিতে মারা গেছে। আমরা বাবা পাইনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি , আমরা সরকারি সকল সেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের একটাই অনুরোধ যাতে সরকারি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার বাবাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।