আজ  সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৯

ভালোবাসা আছে বলেই মানুষ বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে

love-day-20190214002252

জ্যৈষ্ঠ প্রতিবেদক: ‘ভালোবাসা’। এর চেয়ে কোমল শব্দ আর কী হতে পারে! একটি মাত্র শব্দ। তাতে এত মধু! এত আবেগ! ভালোবাসা আছে বলেই মানুষ বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। ভালোবাসা আছে বলেই মানুষ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে ওঠে।

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস (সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে)। ভালোবাসা কোনো দিবস বা সময়-ক্ষণ গুণে আসে না। ভালোবাসার সত্ত্বা সার্বজনীন। ভালোবাসা বহুরূপী। তবুও কালের পরিক্রমায় ১৪ ফেব্রুয়ারি যেন ভালোবাসা প্রকাশের একটি আনুষ্ঠানিক দিবসে রূপ নিয়েছে।

সকল সংকোচ আড়াল করে আপনকে আপন করার দিন আজ। প্রেম-ভালোবাসার নির্মল আনন্দে মেতে উঠবে বিশ্ব। বিশেষত তরুণ-তরুণীরা প্রেমময় আবেগে ভালোবাসার বাহু মেলে ধরবে।

 

গোটা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়া লেগেছে সম্প্রতি। বিশেষ করে শহুরে জীবনে এই দিবসের প্রভাব দিনে দিনে বেড়েই চলছে। তবে গ্রামেও এখন ভালোবাসা দিবসের বিশেষ আয়োজন লক্ষ্য করা যায়।

ফুলে ফুলে সাজবে ভালোবাসার মন। মালাবদলও হয় এমন দিনে। অনলাইন, মোবাইল, ক্ষুদেবার্তায় ভালোবাসার রূপ ফুটে উঠবে। গোলাপের পাপড়ি দিয়ে নতুবা লিপস্টিক মাখা চুমোর চিত্র প্রেমচিঠিতে মেখে পাঠাবে প্রিয়তমার কাছে। আর নানা আকর্ষণীয় উপহারসামগ্রী দিয়ে মনজয় করতে প্রেমচিঠি পাঠাবে প্রিয়তমার কাছে।

ভালোবাসা দিবসে শুধু তরুণ-তরুণীই আনন্দে মাতবে এমন নয়। পরিবার-স্বজন আর বিভিন্ন বয়সী মানুষদের মাঝেও এ দিবসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

 

জানা যায়, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমানসম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেন্টাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ সার্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরও একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ।

এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।