আজ  বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

মতলবে ৭ গ্রামের মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার!

কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর
M1

বিশেষ প্রতিনিধি, চাঁদপুর :
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ও ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের সংযোগস্থলে গোয়াল ভাওর ও ফতেপুর দুই গ্রামের মাঝে অবস্থিত মরা নদীতে রয়েছে প্রায় ২০০ ফুট দৈর্ঘ্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ই এই সাঁকো দিয়ে ৭টি গ্রামের জনগণ যাতায়াত করেন। নিয়মিত এই সাঁকোটি দিয়ে পারাপার হচ্ছে স্কুল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পথচারী সহস্রাধিক পথচারী। এই সাঁকোটির স্থানে একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্কুল টাইমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোটি পারাপার হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। পথচারী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনদেরও পরাপার হতে দেখা গেছে। অনেক শিশুদের কোলে ও কাঁধে নিয়ে এবং অনেক বৃদ্ধদেরকে হাতে ধরে সাঁকোটি পারাপার করতে হচ্ছে। গোয়াল ভাওর গ্রামের মোস্তফা মাঝি বলেন, এই সাঁকোটি গত ১৫ বছর যাবৎ বেহাল অবস্থা। আমরা এলাকাবাসীর উদ্যোগে ও নিজ খরচে বাঁশ-খুঁটি দিয়ে মেরামত করে বহুদিন যাবৎ চলে আসছি। আমি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের প্রতি জোড় দাবী জানাই যে, আমাদের এই এলাকার গোয়াল ভাওর, পশ্চিম ফতেপুর, পূর্ব ফতেপুর, নবুরকান্দি, দক্ষিণ লুধুয়া, নয়াকান্দি, উত্তর গাজীপুর’সহ ৭টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার জনগনের যাতায়াতের স্বার্থে সাঁকোটির স্থানে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা।
ফতেপুর সপ্রাবির সহকারি শিক্ষিকা জাকিয়া সুলতানা বলেন, বর্ষার মৌসুমে এ সাঁকো পারাপার হওয়ার সময় অনেক ছাত্র/ছাত্রী নদীতে পড়ে গিয়ে বই পুস্তক ও পোষাক ভিজে বাড়ি ফিরে গেছে। আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। আবার অনেক ছাত্র/ছাত্রীদের পা বাঁেশর ফাঁকে আটকে গিয়ে আহত হয়েছে। আমিও নিয়মিত এ সাঁকে পারাপার হয়ে স্কুলে যাই। এ সাঁকোটির স্থানে একটি ব্রীজ জরুরী দরকার। ওই এলাকার একজন মানবাধিকার কর্মী আদনান চৌধুরী বলেন, এই সাঁকোটির জায়গায় দ্রুত একটি ব্রীজের প্রয়োজন। এই পথে দু’টি স্কুলের শিক্ষার্থী, ৭টি গ্রামবাসী’সহ হাট-বাজারের পথচারীরা যাওয়ার সময় নিয়মিত সাঁকোটি পারাপার হন। বহুদিন আগে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি নিষ্কাশনের এই মরা নদীটির উপরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত হয় সাঁকোটি। বর্তমানে এই পথ জনগুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই সাঁকোটির স্থানে একটি ব্রীজ জরুরী প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রজ্জব আলী বলেন, এই সাঁকোটি পাড় হতে গিয়ে অনেক ছাত্র/ছাত্রী পড়ে ভিজে গেছে। বহু শিক্ষার্থীকে একাধিক সেট বই দিতে হয়েছে।
ফতেপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ বলেন, সাঁকোর স্থানে একটি ব্রীজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠোনো হয়েছে। বড় প্রকল্প হওয়ায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের আওতায় ব্রীজটি করা সম্ভব না। তবে এলজিআরডি’র প্রকল্পের আওতায় ব্রীজটি হবে। আমার জানামতে, কিছুদিন আগে এলজিআরডি’র কর্মকর্তারা সার্ভে করে গিয়েছে। ব্রীজটি নির্মাণ হলে স্থানীয় এলাকার জনগণ উপকৃত হবে।
ফতেপুর পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়নের জনগনের সবচেয়ে বড় চাহিদা এই ব্রীজটি। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনে দাবী এটি। আমি এ বিষয়ে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম) এমপিকে অবগত করেছি। তবে ঝূঁকিপূর্ণ সাঁকোটি সংস্কার করার লক্ষ্যে এডিপি’র আওতায় মেরামত প্রকল্প টেন্ডার পক্রিয়াধীন রয়েছে। সাঁকেটি মেরামত করা গেলে এলাকার জনগণ নির্ভয়ে যাতায়াত করতে পারবে।