আজ  বৃহঃবার, ২৪ মে, ২০১৮

মতলব উত্তরে গ্রাম-বাংলার হারানো ঐতিহ্য পুতুল নাচের আসর

দেখতে উপস্থিত শিশু-কিশোর ও সহস্রাধিক নারী-পুরুষ

1

আরাফাত আল-আমিন ◊
গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যমূলক সংস্কৃতি ‘পুতুল নাচ’। এখন আর অহরোহ চোখে পড়ে না আনন্দমুখর পরিবেশে পুতুল নাচের আসর। এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে পুতুল নাচ। গ্রাম-বাংলার এ ঐহিত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় ও মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে রবিবার বিকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম-বাংলা ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ‘পুতুল নাচ’।

কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃতি সন্তান কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থাকার এএসআই মোতাহের হোসেন পিন্টুর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ থেকে সকল বয়সী নারী-পুরুষ সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পূর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্যে এএসআই মোতাহের হোসেন পিন্টু বলেন, ছোট বেলায় কয়েকটি এলাকায় এ পুতুল নাচ অনুষ্ঠান দেখেছিলাম। এরপর থেকে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য পুতুল নাচ দেখা মিলে না। হঠাৎ করে গত বছরের এই দিনে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার একটি এলাকায় এ পুতুল নাচ দেখে আমি মুগ্ধ হই। এরপর থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমার এলাকাতেও এ ধরনের অনুষ্ঠান করবো। তিনি আরো বলেন, এ পুতুল নাচ ছিল এক সময় গ্রাম-বাংলার ঐহিত্যবাহী সংস্কৃতি।

2

অনুষ্ঠান দেখতে আসা কিশোর নাঈম জানান, আমি এর আগে পুতুল নাচ দেখিনি। পুতুল নাচ দেখে আমার খুব আনন্দ লেগেছে। পুতুল নাচ দেখতে আসা ৭৫ বছর বয়সী কয়েকজন বৃদ্ধ জানান, ছোট বেলায় এ এধরনের পুতুল নাচের অনুষ্ঠান দেখেছিলাম। এখন আর কোথাও এ সংস্কৃতি দেখা যায় না। পিন্টুর এধরনের উদ্যোগে আমরা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাম-বাংলার হারানো ঐহিত্যকে ফিরে পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে এসব অনুষ্ঠান করলে শিশু-কিশোররা সমাজ, দেশ ও দেশের সংস্কৃতিকে ভালবাসতে শিখবে।

পুতুল নাচের আসরে আঃ হান্নান দর্জির সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য কবির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পুতুল নাচ পরিবেশন করে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার বাণী-বীণা পুতুল নাচ।