আজ  শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮

মতলব উত্তরে বিয়ে বাড়িতে হামলা, গেট ও দোকান ভাংচুর : আহত ২

Matlab news pic 4

মতলব উত্তর প্রতিনিধি :
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের লতরদি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতা জেড় ধরে বিয়ে বাড়িতে হামলা দিয়েছে সাতানী গ্রামের দুস্কৃতিকারীরা। গত বুধবার ২১ শে ফেব্রুয়ারী সন্ধায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিয়ে বাড়ির গেট ও পার্শ্বের একটি দোকান ভাংচুর করে হামলাকারীরা। হামলায় কনের ভাই মিল্লাত হোসেন সবুজ (৩৮) ও রাব্বানী প্রধানের স্ত্রী জয়নব বানু আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সবুজ বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারী পাশাপাশি গ্রাম সাতানী ও লতরদী গ্রামবাসীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র হাতাহাতি হয় ও লাঠি-সোটা নেয় মহড়া দেয় সাতানী গ্রামের লোকজন। এ ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) এলাকার মেম্বার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সমাধান করা কথা রয়েছে। কিন্তু এরমধ্যে বুধবার সন্ধায় সন্ত্রাসী কায়দায় দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি সোটা নিয়ে সাতানী গ্রামের শাহজাহান মোল্লার ছেলে ফরহাদ (২৫), সফিক মিয়ার ছেলে বাবুল (২২), আবুল হোসেনের ছেলে ফরহাদ (২৬), আঃ ছাত্তারের ছেলে সুমন (২০), হারুনুর রশিদ (২৫), আহাম্মদ হোসেনের ছেলে আরিফ (২৭) ও কামাল প্রধানের ছেলে সানি (২১)সহ আরো ৮-১০ জন এসে লতরদি গ্রামে সোবহান প্রধানের বাড়ি হামলা দেয়। পরদিন (২২ ফেব্রুয়ারী) সোবহান প্রধানের কন্যা কুহিনুর আক্তারের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। হামলা দিয়ে তারা বিয়ের গেট ও রাস্তার পার্শ্বে থাকা জয়নব বানুর দোকান ভাংচুর করে।
সোবহান প্রধানের ছেলে মিল্লাত হোসেন সবুজ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার উল্লেখিত হামলাকারীসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৮-১০জনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সবুজ বলেন, সাতানী গ্রামের ওই সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এসে আমাদের বাড়ি হামলা দিয়েছে। আমরা বাঁধা দিতে গেলে আমাদেরকেও মারধর করেছে। আমার বোনের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। তারা এসে গেট ও বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
জয়নব বানু বলেন, আমার দোকান তো কোন দোষ করেনি। তারা এসে আমার দোকানটি ভেঙ্গে চুরমার করেছে। আমি একজন অসহায় নারী। এ দোকানটিই আমার বেঁচে থাকার একমাত্র পুঁজি। সন্ত্রাসী আমার দোকান ভাঙচুর করে মালামাল ও টাকা-পয়সা নিয়ে গেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানান, এটি একটি জঘন্য অপরাধ। বিয়ে বাড়িতে হামলা দেওয়া সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী অপরাধ। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এভাবে প্রকাশে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে এসে হামলা দেওয়া সম্পূর্ণ বে-আইনী ও অপরাধ। এরআগেও তারা এ গ্রামে এসে অস্ত্র মহড়া দিয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তফা কামাল বলেন, এটা একটা দুঃখজনক ঘটনা। সুষ্ঠু তদন্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়ে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।