আজ  মঙ্গলবার, ১৯ জুন, ২০১৮

মতলব উত্তরে মাসুদ রানা হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদন্ড

©©©

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি : চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মো. মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ (২৩) কে হত্যার অপরাধে মো. ইয়ামিন বেপারী (২৪), মো. আব্দুল খালেক মোল্লা (৩২), মো. ফারুক ওরফে নবী (২৫), মো. সেলিম মাঝি (২২) ও মো. আলী মুন্সী (২৮)কে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদ এ রায় দেন।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন: ইয়ামিন উপজেলার দক্ষিণ লধুয়া গ্রামের বাকরা কান্দার মো. আ. রহিম বেপারীর ছেলে, আব্দুল খালেক পশ্চিম লুধুয়া গ্রামের মোল্লা বাড়ীর মৃত নোয়াব আলীর ছেলে, ফারুক একই গ্রামের বেপারী বাড়ীর মো. বারেক বেপারীর ছেলে, সেলিম মাঝি দক্ষিণ লুধুয়া গ্রামের আবুল কাসেম মাঝির ছেলে ও মো. আলী মুন্সী পশ্চিম লুধুয়া গ্রামের মুন্সী বাড়ীর মৃত মোখলেছুর রহমান মুন্সীর ছেলে।

হত্যার শিকার মো. মাসুদ রানা একই উপজেলার দক্ষিণ রাঢ়ী কান্দির দর্জি বাড়ীর মো. রবিউল দর্জির ছেলে। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলা বাজারে বাদল এর তেলের দোকানে কাজ করতেন।

মামলার বিবরণে জানাযায়, ২০০৮ সালের ৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে আসামী মো. আলী মাসুদ রানাকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে যান। ওই রাতে তাকে আর খুঁজে পায়নি পরিবারের লোকজন। পরদিন সকালে আসামী মো. আলীকে স্থানীয় লোকজনের সামনে মাসুদ রানার কথা জিজ্ঞাস করলে মো. আলী জানায় রাতে অপর আসামীরাসহ আলফুর প্রধানের বাড়ীর পাশে রাস্তায় আড্ডা দিয়েছে এবং দোকানে নাস্তা খেয়েছেন। পরে মো. আলী ব্রীজের নিকট এসে তাদেরকে রেখে চলে যায়।

এরপর মাসুদ রানার পিতা ছেলেকে না পেয়ে ১৪ অক্টোবর মতলব উত্তর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। এরপর খোঁজাখুজি করে ১৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে পাশ^বর্তী গোয়াল ভাওর ওহাব নামে ব্যাক্তির ডোবার মধ্যে মাসুদ রানার মরদেহ সন্ধান পায়। তার পরনে জামা কাপড় থেকে মরদেহ সনাক্ত করে এবং পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
আসামীদের জবানবন্দী ও মাসুদ রানার পিতার বক্তব্য থেকে জানাযায়, মাসুদ রানার কর্মস্থলে (দোকানে) আসামী ইয়ামিন বেপারী ২০০৭ সালে ঢাকা থেকে একটি মেয়ে নিয়ে প্রবেশ করে। ওই সময় পুলিশ ওই মেয়ে এবং ইয়ামিনক আটক করে আদালতে প্রেরন করে। পরে ইয়ামিন ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ছাড়া পায়। ওই থেকেই মাসুদ রানা ইয়ামিনকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে সন্দেহ করে শত্রুতা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকী আসামীদের নিয়ে ইয়ামিন বেপারীর তার ঘরে গলায় লুঙ্গি পেঁছিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যা করে এবং গোয়াল ভাওর ডোবার মধ্যে মরদেহ গুম করে রাখে।

এই ঘটনায় মাসুদ রানার পিতা রবিউল দর্জি মতলব উত্তর থানায় ৩০২/২০১/৩৪ দারায় উল্লেখিত আসামীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকরী কর্মকর্তা তৎকালীন সময়ের মতলব উত্তর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আক্রাম হোসেন মজুমদার ও আব্দুল ওহাব ২০০৯ সালের ৩০ মে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর সাইয়্যেদুল ইসলাম বাবু জানান, সরকার পক্ষ দীর্ঘ ১০ বছর মামলাটি চলমান অবস্থায় ৩৪জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫জনের সাক্ষ্য গ্রহন করেন। এতে আসামীদের জবানবন্দী ও অপরাধ স্বীকার করায় উল্লেখিত ৫জনকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। এছাড়া একই মামলার আরো ৩ আসামী কামাল হাওলাদার (৩০), মো. কেরামত আলী মোল্লা (৫৫) ও মো. চেরাগ আলী মোল্লা (৫২) কে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

সরকার পক্ষের সহকারী আইনজীবী সরকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন দেবা শীষ কর মধু।