আজ  বৃহঃবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯

মতলব উত্তরে মোটরসাইকেল চুরির আসামী ধরা নিয়ে হামলা : বাদী ও যুবলীগ নেতা গুরুতর আহত

Matlab uttar pic 1

ষ্টাফ রিপোর্টার ◊

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের আমুয়াকান্দি গ্রামে মোটর সাইকেল চুরি মামলার একজন সন্দেহমূলক আসামীকে পুলিশ আটক করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীপক্ষের উপর অতর্কিত হামলা করে দুস্কৃতিকারীরা। এতে ওই মামলার বাদী আমুয়াকান্দি গ্রামের বাবু দেওয়ান ও তার বড় ভাই গজরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম টফিজ গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ৫ জুলাই রাত আনুমানিক ৮ টায় দিকে আমুয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মফিজুল ইসলামও আহত হয়েছেন। আহত বাবু দেওয়ানকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। আহত টফিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা মাজহারুল ইসলাম টফিজ বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৪। মামলায় আমুয়াকান্দি গ্রামের শুক্কুর দেওয়ানের ছেলে জাহিদ হোসেন মেম্বার (৫০), জিন্নত আলী বেপারীর ছেলে আলমগীর হোসেন (৪৮), নান্নু বেপারীর ছেলে নজরুল ইসলাম বেপারী (৩৫), আবুল কাশেম বেপারী (৩৩), বিপ্লব বেপারী (২৮), সজিব বেপারী (২২), জহির বেপারী (৩৮), আজিজ দেওয়ানের ছেলে মাসুদ (২৮), সুলতান প্রধানের ছেলে মো. হাবিব (৩৩) সহ আরো অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে আসামী করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি যুবলীগ নেতা টফিজের বাড়ি থেকে একটি সুজুগী জিক্সার মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ঘটনায় তার ভাই বাবু দেওয়ান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এর কিছুদিন পর চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল দাউদকান্দি থেকে উদ্ধার করা হয়। ৩ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে প্রেরণ করে পুলিশ। ওই মামলায় সন্দেহমূলকভাবে আমুয়াকান্দি গ্রামের শান্ত নামে এক ছেলেকে সম্প্রতি আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই ছেলেকে আটক করা নিয়ে ইউপি সদস্য জাহিদ মেম্বার ও বাদী বাবুর ভাই মফিজুল ইসলামের সাথে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তর্ক-বির্তক হয়। মেম্বার জাহিদ বলে মফিফুল ইসলাম শান্তকে ধরিয়েছে আর মফিজুল ইসলামের কথা হচ্ছে মামলা তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাকে ধরেছে। এমন তর্কের এক পর্যায়ে মেম্বারের পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাদের উপর হামলা দেয়। এতে বাবুর মাথার দুই পাশে ও চোখে মারাত্মক জখম হলে সে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পরে। তার সাথে থাকা মোবাইল ও দোকানের নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায় আসামীরা। যুবলীগ নেতা টফিজকেও মাথায় আঘাত করলে রক্তপাত হয়। মফিজুল ইসলাম ঘটনার নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এগিয়ে গেলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা দেওয়ার চেস্টা করে। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পান।

পরে আহতদের উদ্ধার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বাবু দেওয়ানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে। সেখাতে তিনি জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন বলে জানা গেছে। আহত টফিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। এদিকে ঘটনার পর পরই মতলব উত্তর থানার এসআই মো. সালাউদ্দিন ও এএসআই আমির হামজাসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মামলা হওয়ার পর রাতেই ২নং আসামী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে মতলব উত্তর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।