আজ  শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮

মতলব উত্তরে রোবোর বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে কান্নার ছাপ

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা
Matlab news pic 3

আরাফাত আল-আমিন ◊

দেশের অন্যতম বৃহত্তম সেচ প্রকল্প চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলেও অখুশি কৃষক। একদিকে কালবৈশাখীর ঝড়-প্রর্বল বর্ষন অন্যদিকে প্রকল্পের বিলগুলোতে নেই পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন খাল। মাত্রাতিরিক্ত পানি জমার কারনে ধান পচে যাচ্ছে। পচন হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান। ফলে আধাপাকা ধান ঘরে তোলতে বাধ্য হচ্ছে কৃষকরা। তাই কৃষকের মুখে ভেসে ওঠেছে কান্নার ছাপ!

এ বছর ইরি-বোরো মৌসুমে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে ৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। চালের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ৩.৯৮ মে.টন। কিন্তু বাম্পার ফলন হলেও পাকা ধান কৃষকরা ঘরে উঠাতে পারবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

গত দুইদিন মতলব উত্তর উপজেলার দূর্গাপুর বিল, ব্রাহ্মনচক বিল, নিশ্চিন্তপুর বিল, ইন্দুরিয়া বিল, ইসলামাবাদ বিল, উত্তর রাঢ়ীকান্দি বিলসহ অন্তত ১০টি বিল ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ধান গাছ হেলে গেছে। ফলে গাছে পচন ধরতে শুরু করেছে। সাথে সাথে পচে যাচ্ছে পাকা ধানও। এতে বাধ্য হয়েই কৃষকরা আধাপাকা ধান কেটে ফেলছে। এ কারণে আবাদে যে পরিমান খরচ হয়েছে তার অর্ধেকও উঠবে না।

ইসলামাবাদ গ্রামের কৃষক আহসান উল্লাহ বলেন, এবার ধানের ফলন ভাল হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ধান গাছের গলা সমান পানি জমে গেছে। বিলের পানি সরছে না। দ্রুত যদি ধান না কাটি তাহলে পচে যাবে। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে আধাপাকা ধানই কেটে ফেলছি। কৃষক আঃ মজিদ বলেন, ক্ষেতে পানি জমে থাকার কারনে ধান কাটতে বদলা খরচ বেশি লাগছে। তাছাড়া আধাপাকা ধান কাটার কারনে মরাধান বেশি পড়বে। আবাদী খরচ পরিমাণ ধানও উঠবে না। আমুয়াকান্দি গ্রামের কৃষক মো. মিন্টু বলেন, পানি না টানার কারনে ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হলে ধান পচে যাবে। আমাদের মারাত্মক লোকসান হবে।

Matlab news pic 1
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইরি-বোরো মৌসুমে স্থানীয় ও উপশি জাতের প্রায় ৯ হাজার ৬০০ একর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন বিলগুলোতে এবার ধানের আবাদ হয়েছে। তবে উঁচু জমিগুলো হয়েছে ভূট্টা চাষ। সময়মত পানি ব্যবস্থা ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবং উপজেলা কৃষি অফিসের তৎপরতায় এবার ধানের বাম্পার ফল হয়েছে। তবে শেষ সময় কালবৈশাখী ঝড়ের কারনে ক্ষতির মূখে পড়তে পারে কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, মৌসুমের শুরু থেকে আমরা সার্বক্ষণিক কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি। এবার ধানের ফলন অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে। কিন্তু শেষ সময়ে এসে বৃষ্টি পানির জলাবদ্ধতায় ধানের অনেক ক্ষতি হতে পারে। প্রত্যেকটি বিলের পানি নিষ্কাশন খালগুলো পর্যাপ্তভাবে সচল করা প্রয়োজন। তবে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা মেঘনা-ধনাগোদা পওর বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করেছি।

এ বিষয়ে কথা হয় মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সরকার মো. আলাউদ্দিন এর সাথে। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের ঝড়ে ওয়াপদার লাইনের (বিদ্যুৎ) কয়েকটি খুঁটি পড়ে গেছে। কিছু পরিমান তারও ছিঁড়ে গেছে। ফলে সেচ পাম্পগুলো সঠিক সময়ে চালু করা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত পাম্পগুলো চালু করে সেচের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে আমরা যথেষ্ট চেস্টা করছি। তিনি আরও জানান, প্রকল্পের পানি নিষ্কাশন খালগুলো দখল, ভরাট ও সচল না থাকায় বিলগুলোতে বৃষ্টি এলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে আমরা সকলের সহযোগীতা চাইছি। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না। এখনি পানি নিষ্কাশন খালগুলো সচল না করা গেলে এ প্রকল্প অনেক ক্ষতির দিকে ঝুঁকতে থাকবে।

এ ব্যপারে মেঘনা-ধনাগোদা পওর বিভাগ চাঁদপুর এর উপ-সহকারি/প্রাক্কলনিক মো. জামাল হোসেন বলেন, প্রকল্পের বিলগুলোতে জলাবদ্ধতার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিদ্যুৎতের সমস্যার কারনে আমরা পাম্প চালু করতে পারছি না। তবে চেষ্টা চলছে। দ্রুত পানি সেচ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পানি নিষ্কাশন খালগুলো সচল করার লক্ষ্যে আমরা কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। আশা করি দ্রুত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প কমিটির নেতৃবৃন্দদের ভূমিকাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি জানান।