আজ  বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

মতলব উত্তরে শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি উদ্যোগে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণসহ ১১দফা দাবীতে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

M1_1 M1_2

মতলব উত্তর প্রতিনিধি :
শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি মতলব উত্তর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ১১ দফা দাবীতে মাননববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১ ঘটিকায় মতলব উত্তর উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি মতলব উত্তর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শহিদ উল্লাহ প্রধানের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-আহ্বায়ক সাংবাদিক ঢালী কামরুজ্জামান হারুনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, নববর্ষ ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতাসহ শিক্ষক কর্মচারীদের ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক সরকার আবুল কালাম আজাদ, ওটারচার উবির সিনি: শিক্ষক আলী আকবর, লুধুয়া হাইস্কুলের সিনি: শিক্ষক আবুল বাশার, মোজাদ্দেদীয়া উবির শিক্ষক মজলিশ আহমেদ, দূর্গাপুর জনকল্যাণ উবির শিক্ষক ইমাম হোসেন, কামাল হোসেন, হাজী সিদ্দিকুর রহমান উবির শিক্ষক মুজাম্মেল হক, ইন্দুরিয়া উচির শিক্ষক নজরুল ইসলাম, ফতেপুর উবির শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন, ঝিনাইয়া উবির শিক্ষক হাবিব উল্লাহ, নাউরি আহম্মদীয়া উবির শিক্ষক জাকির হোসেন, পাঁচআনী উবির শিক্ষক অহিদ উল্লাহ, রফিকুল ইসলাম প্রমূখ।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তারের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর ১১ দফা দাবী উল্লেখ করে স্মারকলিপি পেশ করেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। এরপর উপজেলা পরিষদের সম্মুখে বিশাল মানববনন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা ছাড়া জাতি উন্নত হতে পারে না। তাই শিক্ষাকে জাতীয় করণ করতে হবে। তাহলে জাতি ও দেশ দ্রুত উন্নয়নের দিকে ঘুরে দাঁড়াবে। সে লক্ষ্যে সকল মাধ্যমিক স্কুলগুলো জাতীয় করণ করতে হবে।
বক্তারা ১১ দফা দাবী তুলে ধরেন, সেগুলো হলো- ১। শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে হবে। ২। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, নববর্ষ ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান করতে হবে। ৩। অনুপাত প্রথা বিলুপ্ত করে সহকারি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে হবে। ৪। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারি প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সরকারি প্রধান শিক্ষকের অনুরুপ প্রদান করতে হবে, শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্বের ন্যায় টাইম স্কেল দিতে হবে। ৫। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা প্রদানের পরিবর্তে অবিলম্বে পূণার্ঙ্গ পেনশন চালু করতে হবে। ৬। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে পাঠদানকারী শিক্ষকসহ বিধিমোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করতে হবে। ৭। ইউনেস্কোর সুপারিল অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জিডিপি’র ৬% এবং জাতীয় বাজেটের ২০% বরাদ্দ রাখতে হবে। ৮। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো যুগোপযোগীকরণ ও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের চাকরি বিধিমালা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। ৯। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে বেসরকারি শিক্ষকদের ৩৫% প্রেষণে নিয়োগ দিতে হবে। ১০। কারিগরি শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি কারিগরি ও ভোকেশনাল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। ১১। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে হবে।