আজ  সোমবার, ২১ মে, ২০১৮

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন অসুস্থ ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকবৃন্দ

parvez Patwary_1 copy

এম. পারভেজ পাটোয়ারী: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের ধনাগোদা-তালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্রছাত্রী গতকাল বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় ৪১ জনকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ধনাগোদা-তালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুকুল ইসলাম জানান, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক তাকে শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর ক্লাস চলাকালে আরও দুইজন অসুস্থ হয়। বেলা ১১টার পর পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শতাধিক ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে স্কুল ছুটি দেওয়া হয়। স্কুল ছুটির পর কেউ পথে, আবার কেউ বাড়িতে যাওয়ার পরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন যানবাহনে অসুস্থদের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়াও পারিবারিকভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে যান বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা শিক্ষার্থীরা হচ্ছেÑ আবিরা সুলতানা (১৪), সুমাইয়া আক্তার (১৫), আয়েশা (১৪), উরমি আক্তার (১২), মিতু (১৪), নাজমা (১৪), তৃপ্তি (১২), সাথী (১৬), মনিরা (১৬), বৃষ্টি (১৫), শিখা (১৩), হাওয়া (১৭), খাদিজা (১৭), সুর্বণা (১২), সানজিদা (১৬), সামিয়া (১৩), ফাতেমা (১৬), রাফিয়া (১২), তামান্না (১৪), মিম (১৪), খাদিজা (১৮), লিমা (১৫), সামিয়া (১৩), মারিয়া (১৪), মাজহারুল (১২), হীরামনি (১২), মারিয়া (১৫), মুন্নি (১৫), পার্বতী (১৬), জিহাদ (১৪), নিপা (১৩), মাহমুদা (১৬), ইমন (১২), রূপালী (১৬) ও সুমাইয়া (১৪)।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার সাহা বলেন, চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠে ৩৫ জন। গুরুতর আহত তিনজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ছাড়াও আরও ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো রোগ চিহ্নিত করা যায়নি। তবে সন্দেহজনক গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ (একজনের দেখাদেখি আরেকজনের আতঙ্কিত হয়ে যাওয়া) বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তারদের যথেষ্ট সেবা আন্তরিকতারও কোন কমতি ছিল না বলে জানা যায়। জুনিয়র কনসালটেন্ট শিশু বিষয়ক ডা. ইসমাইল, ডা. মেহেদী হাসান আরএমও, আকলিমা; এমওডিসি, ডা. আলামিন; এমওডিসি, ডা. নিগার সুলতানা, ডা. আকলিমা জাহান, ডা. জয়নাল।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অসুস্থ হওয়া ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকগণ। তারা বলেন, আমাদের বাচ্চাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মাত্রই তাদের যে অক্লান্ত সেবা তা বলার মত ভাষা নেই। তাদের এ সেবার কারণে বাচ্চারা সুস্থ হয়ে আল্লাহর রহমতে বাড়ি যাচ্ছেন। সেই জন্য হাসপাতালে কর্তব্যরত সকল ডাক্তাদের এই সেবা একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে অভিভাবকরা মনে করেন।

খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে যান মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, ওসি মো. আনোয়ারুল হক কামাল, ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন প্রমুখ।