আজ  মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিউমোনিয়ার প্রকোপ

22264708_1636901076354663_48980342_n

এম. পারভেজ পাটোয়ারী  : নিউমোনিয়া হতে পারে যেকোনো বয়সেই, তবে শিশুদের বেশি হয়। রোগটিতে প্রথমে সর্দি-কাশির মতো সাধারণ উপসর্গ থাকে, যা পরে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

মতলব দক্ষিণ ও উত্তরে ব্যাপক নিউমোনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।। মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে। বর্হিবিভাগেও প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ জন শিশুকে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা যায়।

আবহাওয়া পরিবর্তন, দিনে গরম ও রাতে শীতজনিত কারণে নিউমোনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। তবে এ ব্যাপারে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্যে সবাইকে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলাসহ চাঁদপুরে একটি ইউনিয়ন থেকে প্রতিদিনই নিউমোনিয়া রোগী চিকিৎিসা সেবা নিচ্ছে। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত নিউমোনিয়া আক্রান্ত প্রায় আড়াই শতাধিক শিশু চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে। বুধবার (৪ অক্টোবর) হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৬৪ জন ভর্তি রয়েছে। তন্মেধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুই ৩৯ জন। তাদের বয়স শূন্য থেকে সর্বোচ্চ ১-২ বছর।

এছাড়াও শ্বাসকস্ট, মারামারি,সহ বিভিন্ন রোগে ভর্তি রয়েছে ২৫ জন। ৪ অক্টোবর যে সকল নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু দেখা যায় তাদের মধ্যে রয়েছে মতলব দক্ষিণে চরমুকুন্দি গ্রামের রিয়াদ, উপাদীর আনাছি,ডিঙ্গাভাঙ্গার কুলছুমা, নারায়নপুরের ইসরাফিল রবিউল, বহরীর আয়েশা, উপাদীর ওমর ফারুক, শিবপুরের সুমাইয়া, মতলব উত্তর উপজেরার ছেঙ্গারচরের আদিব,আমিরাবাদের সামেদা,ঠেটালিয়ার ইস্রাফিল, বড় হলদিয়ার ফাতেমা, আমুয়াকান্দর কারাবি, আমিরাবাদের রহিম সামেদা,ঠোলিয়ার ইস্রাফিল, বড় হলদিয়ার ফাতেমা,আমুয়াকান্দার ফারাবি, আমিরাবাদের রহিম, চাঁদপুর সদরের বিষ্ণপুরের জিহাদ, জুনায়েদ ওমাইনুল ইসলাম।

মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ফতেপুর গ্রামের শিশু লাবিবা তাসনিমের মা রিনা বেগম জানান,‘ তার সন্তানকে নিয়ে ৫ দিন যাবৎ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ডাক্তার ও নার্স যতœ সহকারে রোগী দেখে এবং ঔষধ লিখে দেয়। কিন্তু সব ঔষধ বাহির থেকে কিনে আনতে হয়।’

মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘোড়াধারী গ্রামের শিশু আফসানার মাসহ হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের ১০ জন মায়ের সাথে আলাপ করলে সবাই অভিযোগ করেন, ‘সরকারি হাসপাতালে সব ঔষধ কিনে নিতে হয়।’ তবে ডাক্তার বা নার্সদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি।’

হাসপাতালের দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স নূসরাত জাহান বলেন,‘ ১০-১৫ দিন যাবৎ নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনও ৫০ বেডের হাসপাতালে ৬০-৬৫ জন রোগী ভর্তি আছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের চিকিৎসা দিতে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে যতœ সহকারে সেবা প্রদান করা হয়।’

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.মাহমুদুল হাসান সুমন  বলেন,‘হঠাৎ করে আবহাওয়া পরিবর্তন,গরম-ঠান্ডা জনিত কারণ এবং মায়ের অসেচতনতার কারণে শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে রোগীর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সঠিক সেবা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।হাসপাতালে নিউমোনিয়া রোগীর পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ নেই। তবে যতটুকু সম্ভব ঔষধ দেয়া হচ্ছে।’

যখনই নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলো দেখা যাবে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে অথবা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। যত দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা শুরু হবে, তত দ্রুত উপশম হবে আর চিকিৎসাসেবা নিতে যত দেরি হবে, নিউমোনিয়া তত ভয়াবহ হতে থাকবে। নিচের লক্ষণগুলো থাকলে অবশ্যই দ্রুত শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে।

যখনই নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলো দেখা যাবে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে অথবা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। যত দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা শুরু হবে, তত দ্রুত উপশম হবে আর চিকিৎসাসেবা নিতে যত দেরি হবে, নিউমোনিয়া তত ভয়াবহ হতে থাকবে। নিচের লক্ষণগুলো থাকলে অবশ্যই দ্রুত শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে। * শ্বাস নিতে খুব কষ্টবোধ বা অতি দ্রুত শ্বাস নিতে থাকলে;* নখ, ঠোঁট ইত্যাদি নীল হয়ে গেলে * জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে।

নিউমোকক্কালজনিত নিউমোনিয়া মারাত্মক একটি রোগ। তাই নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন নিয়ে এটা প্রতিরোধ করা ভালো। এ ক্ষেত্রে ছয় মাস বয়সের আগে নিলে তিন ডোজ লাগবে। ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে নিলে দুই ডোজ লাগবে। আর এক বছর পরে নিলে এক ডোজ লাগবে। আর মিজেলস বা রুবেলা ভ্যাকসিনও যদি কেউ নিয়ে থাকে, এটাও কিন্তু পরোক্ষভাবে নিউমোনিয়ার হাত থেকে শিশুকে রক্ষা করে।