আজ  সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১৮

মন্ত্রিসভার বৈঠক চাহিদার অতিরিক্ত চাল আমদানি না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

4_151903

আইএনএন২৪বিডি.কম: দেশের খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় চাহিদার অতিরিক্ত চাল আমদানি না করতে খাদ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিতে কৃষকের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সেজন্যই এ নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জানান, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ২০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ সময় খাদ্য সচিব বলেন, দেশে বর্তমানে ৮ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে এসব তথ্য।

সূত্র আরও জানায়, অনির্ধারিত আলোচনায় দেশের সর্বশেষ খাদ্য মজুদের পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ আলোচনায় একাধিক মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে অনেক ব্রিজ ও কালভার্ট তৈরি করা হয়েছে। ফলে বন্যার পানি দ্রুত নামতে পারে না। বাঁধ দিয়ে অনেক ছোট নদীতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সেতু ও কালভার্টের মুখ আটকেও চাষ করা হচ্ছে মাছ। অনেকে নিজের সুবিধার জন্য ব্রিজ ও কালভার্টের নিচে মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলেছেন। ফলে ওইসব স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রীদের এমন আলোচনার পরিপ্র্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম একটি প্রস্তাব দেন। জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে যেসব সেতু ও কালভার্ট রয়েছে, তা ভেঙে ফেলতে প্রধানমন্ত্রী যাতে একটি নির্দেশনা দেন- সে বিষয়টি উল্লেখ করা হয় তার প্রস্তাবে। এছাড়া সেতু ও কালভার্টে অপরিকল্পিতভাবে দেয়া বাঁধ উচ্ছেদ এবং এসব স্থান দিয়ে পানি দ্রুত নামার ব্যবস্থাও করতে বলেন তিনি।

জানা গেছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ মুহূর্তে কী পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ আছে, তা খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের কাছে জানতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। জবাবে খাদ্য সচিব মন্ত্রিপরিষদকে জানান, দেশে বর্তমানে ৮ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে। অতিরিক্ত আরও পৌনে ৪ লাখ টন খাদ্যশস্য বন্দরে পৌঁছার অপেক্ষায় রয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাদ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এখন পর্যন্ত দেশের খাদ্য ঘাটতি কত? জবাবে কামরুল ইসলাম জানান, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে খাদ্য ঘাটতি ২০ লাখ টন আশঙ্কা করা হচ্ছে। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাহলে এ ২০ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য যেন আমদানি করা না হয়। প্রয়োজনের বেশি খাদ্যশস্য আমদানি করলে দেশের সাধারণ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ সময় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী আমন ধানের বীজ ও চারার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে- এ তথ্য জানিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করেন।

মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, দেশের খাদ্য ঘাটতি মেটাতে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে ১৫ লাখ টন চাল এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে ৫ লাখ টন গম আমদানি করা হবে বলে মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, সভার শুরুতে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জানান, তার নেতৃত্বে চাল আমদানির বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিনিধি দল কম্বোডিয়া সফর করেন। এ বিষয়টি তিনি মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন। ওই সময় খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন চাল আমদানির জন্য কম্বোডিয়ার সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী কবে নাগাদ চাল আসবে- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এরই মধ্যে চাল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকের শুরুতে নায়করাজ রাজ্জাক, যশোর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতান ও ক্রিকেটার খালেদ মাসুদ পাইলটের বাবা শাসুল আলম মোল্লার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।

সিডিএ এবং কেডিএ আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন : মন্ত্রিসভার বৈঠকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওই দুই আইনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। খসড়ায় যা এসেছিল, তা-ই রাখা হয়েছে। শুধু সচিব শব্দটি যোগ করা হয়েছে। এখন দুই কর্তৃপক্ষই একজন করে মেম্বার সেক্রেটারি থাকবেন। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, মার্শাল ল’ আমলের আইন দিয়ে সিডিএ ও কেডিএ চলছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশে এসব আইনকে পরিমার্জন করে বাংলা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সিডিএ ও কেডিএ’র চেয়ারম্যান, সদস্য ও কর্মকর্তারা সংস্থা দুটির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে প্রস্তাবিত খসড়ায়। খসড়ায় কোনো সীমানাপ্রাচীর, পিলার ও সড়কবাতি ধ্বংসের জন্য জরিমানা ২০০ থেকে বৃদ্ধি করে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে।

ঈদের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি : কোরবানির ঈদের ছুটি বাড়বে কিনা, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এনিয়ে আলোচনা হয়নি। ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ১, ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর কোরবানির ঈদের সাধারণ ছুটি নির্ধারিত আছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ছুটি নিয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত পাননি। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনাও হয়নি বলে জানান তিনি।