আজ  বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

মন্ত্রিসভায় প্রশ্ন তুললেন কয়েকজন সদস্য ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়

1502123478
আইএনএন২৪বিডি.কম  বহুল আলোচিত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কিছু পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রীরা রায়ে উল্লেখ করা বেশকিছু পর্যবেক্ষণ এক্সপাঞ্চ করার পক্ষে মত দেন। তবে তা কী প্রক্রিয়ায় করা হবে সিটি নির্ণয় করতে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আপত্তির বিষয়গুলোকে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপনের কথা বলা হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট বৃস্পতিবার আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন ।

 

ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আলোচনার বিষয়টি সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়নি। তবে ওই অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেওয়া মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়। উপস্থিত বেশিরভাগ সদস্যই রায়ের উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণের সমালোচনা করেন। তবে সিলেটে সাংবাদিকদের কাছে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।   তিনি বলেন, ‘যতবার ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হবে, ততবার সংসদে তা পাস করা হবে’। একটি সূত্র অবশ্য বলছে, ষোড়শ সংশোধনীর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ভিন্ননামে সংবিধান সংশোধনীর কথাবার্তাও চলছে সরকারি মহলে।

 

সূত্র জানায়, বৈঠকে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের কপি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছু আনা হয়েছে, যার প্রয়োজনীয়তা নেই। যেমন পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংশোধনীও টেনে আনা হয়েছে। এ রায়ে সংসদকে ‘ইমম্যাচিউরড’ বলা হয়েছে। এমনকি ২০১৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল, সেটাকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ বলা হয়েছে। এছাড়াও রায়ে আরো অনেক ‘অপ্রাসঙ্গিক ’ বিষয় আনা হয়েছে।

 

সূত্র জানায় ‘আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কার করে বলেন, ‘আগে রায় জেনেছিলাম মাত্র। এবার রায়ের কপি হাতে পেলাম, দেখলাম, পড়লাম ও বুঝলাম। এ রায়ের কোথাও কোথাও সরকার এবং জনগণ সম্পর্কে যে  মন্তব্য করা হয়েছে তা কতটা যুক্তিযুক্ত তা যেখানেই সুযোগ পাবেন সেখানে জনগণকে জানাবেন। কারণ, আমরা জনগণের প্রতিনিধি। জনগণের এসব বিষয় জানার অধিকার আছে।’

 

একজন প্রতিমন্ত্রী বলেন ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সভা শেষে আলোচনা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, এই সংসদ ‘ইমম্যাচিউরড’ এবং নির্বাচন ‘প্রশ্নবিদ্ধ’। আমি বলতে চাই, এই সংসদের সদস্যরাই কিন্তু ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছেন। তাহলে তিনিও তো ‘ইমম্যাচিউরড’ এবং তার নিয়োগও কি ‘প্রশ্নবিদ্ধ হয় না’। সেই প্রশ্নবিদ্ধ রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দিয়েছেন এবং তাকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন।

 

আরো ৭টি নতুন দূতাবাস স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এসব দূতাবাস আফগানিস্তানের কাবুল, সুদানের খার্তুম, দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি টাউন, রুমানিয়ার বুখারেস্ট, ভারতের চেন্নাই, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও কানাডার টরন্টোতে স্থাপিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রিবর্গ, প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

পরে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বৈঠকে গ্রিসের এথেন্স, ইতালির মিলান, ভারতের মুম্বাই, তুরস্কের ইস্তাম্বুল, পর্তুগালের লিসবন, চীনের কুনমিং, লেবাননের বৈরুত, মেক্সিকো সিটি, ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়া, ফ্রান্সের পোর্ট লাইস, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, পোলান্ডের ওয়ারশ, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা, নাইজেরিয়ার আবুজা, আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স ও ভারতের গুয়াহাটিতে দূতাবাস স্থাপনের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেয়া হয়। এসব মিশন ২০১৪ সালে চালু হয়।

 

বৈঠকে নজরুল ইন্সটিটিউট আইন-২০১৭ এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আন্তঃসীমান্ত পেপারলেস বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকের শুরুতে গত মাসে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড লাভের জন্য সায়মা হোসেন ওয়াজেদকে অভিনন্দন জানিয়ে এক প্রস্তাব গৃহীত হয়।

 

নিউরোজিক্যাল ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার এবং অটিজম ও ডাব্লিউএইচও’র মেন্টাল হেলথ এক্সপার্ট টিমের ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সভাপতি সায়মা ওয়াজেদ নিরলস ও উদ্ভাবনী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নিউইয়র্ক ভিত্তিক অটিজম আক্রান্ত শিশু কেন্দ্র ও স্কুল সিমা কোলাইনুর কাছ থেকে এ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।