আজ  বৃহঃবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯

মাত্র এক বছর আগে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েই বেপরোয়া জাহিদ মেম্বার

61188792_302054724017478_1855163616873938944_o
নিজস্ব প্রতিবেদক ◊
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. জাহিদ হোসেন। তিনি রাজনৈতিক জীবন শুরু থেকেই বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী। ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপির পদে ছিলেন। বিএনপির অবস্থা ভাল নয় এবং মাঠ পর্যায়ে তেমন কর্মকান্ড নেই বিধায় গত ২০১৮ সালের এই দিনে আওয়ামীলীগে যোগ দেন তিনি। কিন্তু দলে যোগ দেওয়ার এক বছর না পেরুতেই তিনি বেপারোয়া হয়ে উঠেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে দিয়েছেন। তার এ কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী জানান, জাহিদ মেম্বার আওয়ামীলীগে যোগদান করার আগে নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী সবাইকে নিয়ে স্থানীয় কর্মকান্ড করতেন। এখন তিনি একজন আওয়ামীলীগ নেতা, তাই কাউকে আর তোয়াক্কা করার প্রয়োজন নেই। তিনি স্থানীয় সকল কার্যক্রম নিজের মন মত করেন। এতে কেউ কিছু বলতে তাদের উপর শুরু হয় অন্যায় অত্যাচর। যাকে যেভাবে পারেন সেভাবেই নির্যাতন করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তার নিজস্ব বাহিনী দ্বারা দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে মারধর করান।

জানা গেছে, গত ৫ জুলাই রাত আনুমানিক ৮ টার সময় মোটর সাইকেল চুরি আসামী গ্রেপ্তার কেন্দ্র করে জাহিদ মেম্বার ও তার লোকজন গজরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম টফিজের মাথা ফাঁটিয়ে দেন। শুধু তাই নয় তার ছোট ভাই যুবলীগ নেতা বাবু দেওয়ানকেও মাথায় ও চোখে মারাত্মক জখক করলে ব্যাপক রক্তপাত হয়। এ ঘটনায় আমুয়াকান্দি গ্রাম তথা গজরা ইউনিয়নে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওহেদুজ্জামান ওয়াদুদ বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের হাত ধরে জাহিদ মেম্বার গত বছর আওয়ামীলীগে যোগ দেন। দলে ঢুকেই তিনি নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। বিএনপি থেকে যারা আওয়ামীলীগে আসে, অথবা পদ দেওয়া হয় তাদের দ্বারা অনেক এলাকাতেই দলীয় নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হচ্ছেন। বিএনপি কর্মীরা আমাদের কখনোই ভাল চায় না। তারা সুযোগ পেলেই আমাদের মাথায় চরে বসবে।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শহিদ উল্লা প্রধান বলেন, এমন ঘটনা আমাদের কখনোই কাম্য নয়। আমরা চাই সকলে মিলে মিশে কাজ করুক। কিন্তু নব্য আওয়ামীলীগে যোগদানকৃত কিছু নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় বেপারোয়া হয়ে উঠেছে। আমরা শ্রীঘ্রই এ ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিবো।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য জাহিদ মেম্বারের মুঠোফোনে একাধিবার চেষ্টা করলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার একটি বিশ স্ত সূত্র জানায়, তিনি একজন ভাল লোক। তার বিরুদ্ধে এলাকার লোকেরা পায়তারা করে।